সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি শিশুকে পেটানোর ভিডিও শেয়ার করে বলা হচ্ছে, নরসিংদীর একটি মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীকে পেটানো হচ্ছে। এরকম কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ৫ এপ্রিল 'Anwar Gazi' নামে একটি ফেসবুক একাউন্ট থেকে ভিডিওটি শেয়ার করে বলা হয়, "সাত বছরের মুজাহিদ নামে এক শিশুকে ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল না করায় অমানবিকভাবে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে নরসিংদীর ভেলানগরে অবস্থিত মাদরাসাতুল আবরার আল আরাবিয়াহ নামে একটি মাদরাসার শিক্ষক নাজমুস সাকিব। শিশুটি এখন ১০০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।" ফেসবুক পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের শাহারণপুর জেলার একটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের আলোচ্য ভিডিওটি ধারণ করা হয়।
আলোচ্য ভিডিওটি সম্পর্কে জানতে কি-ওয়ার্ড সার্চ করে গত ৪ এপ্রিল ভারতীয় গণমাধ্যম News 24 এর ইউটিউব চ্যানেলে "UP के Saharanpur में मदरसे के अंदर Muslim बच्चे को पीटा! Police ने आरोपियों को पकड़कर सिखाया सबक! (উত্তর প্রদেশের শাহারণপুরে একটি মাদ্রাসার ভেতরে এক মুসলিম বালককে মারধর করা হয়েছে! পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে উচিত শিক্ষা দিয়েছে!- গুগলের সাহায্যে অনূদিত)" শিরোনামে প্রচারিত একটি প্রতিবেদনে আলোচ্য ভিডিওটির মত ভিডিওর দৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের শাহারণপুর জেলার একটি মাদ্রাসায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে পেটানোর সময় আলোচ্য ভিডিওটি ধারণ করা হয়। ইউটিউব ভিডিওটি দেখুন--
আরো সার্চ করে ভারতীয় গণমাধ্যম রিপাবলিক ওয়ার্ল্ডের ওয়েবসাইটে গত ৪ এপ্রিল "Brutal: 10-Year-Old Boy Screams In Pain As Maulana Rains Lashes On Him With Stick At Saharanpur Madrasa | VIDEO" শিরোনামে প্রচারিত একটি প্রতিবেদনেও আলোচ্য ভিডিওটির মত দৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর প্রদেশের শাহারণপুরের একটি মাদ্রাসা থেকে একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ভিডিও সামনে এসেছে, যেখানে একজন মাওলানাকে একটি ১০ বছর বয়সী বালককে লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে মারতে দেখা যায় এবং বালকটি যন্ত্রণায় চিৎকার করছিল। পরবর্তীতে শিশুটিকে পেটানোর অভিযোগে দুজনকে আটক করে পুলিশ। স্ক্রিনশট দেখুন--
এছাড়াও, ভারতীয় গণমাধ্যম দি ইকোনমিক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকেও জানা যায় একই তথ্য।
পরবর্তীতে কি-ওয়ার্ড সার্চ করে শাহারণপুর জেলা পুলিশের এক্স একাউন্ট থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে আলোচ্য ঘটনার সত্যতা এবং দুই ব্যক্তির গ্রেফতারের ব্যাপারে জানানো হয়। এক্স পোস্টটি দেখুন--
অর্থাৎ আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের শাহারণপুর জেলার একটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের আলোচ্য ভিডিওটি ধারণ করা হয়।
সুতরাং ভারতের মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ভিডিও শেয়ার করে বাংলাদেশের বলে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে যা বিভ্রান্তিকর।




