সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে বলা হচ্ছে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার কারণে জামায়াত সমর্থকদের উপরে হামলা চালাচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এরকম কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি 'আদর্শ পথ' নামে একটি ফেসবুক পেজে ভিডিওটি শেয়ার করে বলা হয়, "#দাঁড়ি পাল্লায় ভোট দেওয়ার কারণে হামলা চালাচ্ছে বিএনপির নেতারা। বিএনপির সন্ত্রাসীদের জুলাইয়ের কথা আবার মনে করিয়ে দিলাম।" ফেসবুক পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
অর্থাৎ, ভিডিওটিতে দাবি করা হচ্ছে, জামায়াতের নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় মার্কায় ভোট দেওয়ায় জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের উপরে হামলা করেছে বিএনপির সমর্থকরা।
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। নির্বাচনের আগের জামায়াত বনাম বিএনপির সংঘর্ষের একটি ভিডিওকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরে সংঘটিত জামায়াতের উপরে বিএনপির হামলার বলে প্রচার করা হচ্ছে।
আলোচ্য ভিডিওটি সম্পর্কে জানতে ভিডিওটি থেকে কি-ফ্রেম কেটে নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দৈনিক পত্রিকা সমকালের ইউটিউব চ্যানেলে গত ৩ ফেব্রুয়ারি "নওগাঁয় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের সং ঘ র্ষ, আ হ ত ১০ | | Samakal News" শিরোনামে প্রচারিত আলোচ্য ভিডিওটির মত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ইউটিউব ভিডিওটি দেখুন--
আরো সার্চ করে দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলোর অনলাইন ভার্সনে গত ৩ ফেব্রুয়ারি "নওগাঁয় নির্বাচনী প্রচারের সময় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ১৩" শিরোনামে প্রচারিত একটি প্রতিবেদনে আলোচ্য ভিডিওটির মত একটি দৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, "নওগাঁ-৫ (নওগাঁ সদর) আসনে নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলার চক গোপাই গ্রামে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সদর উপজেলার হাসাইগাড়ী ইউনিয়নের চক গোপাই গ্রামে বিকেলে জামায়াতের নেতা–কর্মীরা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছিলেন। এ সময় জামায়াত-বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে তর্ক ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। বিএনপির দাবি, সংঘর্ষে তাদের পাঁচজন আহত হয়েছেন। আর জামায়াতের দাবি, তাদের আটজন আহত হয়েছেন।" স্ক্রিনশট দেখুন--
এছাড়াও, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের অনলাইন ভার্সনে এবং বার্তা টোয়েন্টিফোরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকেও জানা যায় একই তথ্য।
অর্থাৎ, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। নির্বাচনের আগে সংঘটিত জামায়াত বনাম বিএনপির সংঘর্ষের একটি ভিডিওকে নির্বাচনের পর জামায়াতের উপরে বিএনপির হামলার ভিডিও বলে প্রচার করা হচ্ছে।
সুতরাং ভিন্ন ঘটনার ভিডিওকে জামায়াতের সমর্থকদের উপরে বিএনপি সমর্থকদের হামলার ভিডিও বলে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে যা বিভ্রান্তিকর।




