সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, কুষ্টিয়ায় বিএনপি নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ঘটিয়েছে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ‘BNP Network, Patuakhali - 3’ নামক একটি পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে উল্লেখ করা হয়, “কুষ্টিয়া বিএনপি নেতার বাড়িতে আ*গু*ন দিল জামাত শিবিরের নেতাকর্মীরা অভিযোগ ভিডিও।” নিচে পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে আলোচ্য ভিডিওটি কুষ্টিয়ায় বিএনপি নেতার বাড়িতে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের অগ্নিসংযোগের কোনো ঘটনার নয়; বরং এটি নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ভিডিও।
ভাইরাল ভিডিওটির কি ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে “আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাড়িতে আগুন-সংঘর্ষ, গুলিতে স্কুলছাত্র নিহত” শিরোনামে দৈনিক ‘সমকাল’ এর ওয়েবসাইটে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবির সঙ্গে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওর দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়। যেখানে বলা হয়, নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে বাড়িঘরে আগুন ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় মুস্তাকিম মিয়া (১৩) নামে এক স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। স্ক্রিনশট দেখুন--
পাশাপাশি কি ওয়ার্ড সার্চ করে “ফের উত্তপ্ত নরসিংদীর রায়পুরা, গু'লিতে কিশোর নি হ ত” শিরোনামে বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘সময় টেলিভিশন’ এর ইউটিউব চ্যানেলে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনের শুরুর ৮ সেকেন্ডের দৃশ্যের সঙ্গে ফেসবুকে আলোচ্য দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়। ভিডিওটি দেখুন--
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক বছরে উপজেলা চরাঞ্চল সায়দাবাদ এলাকায় হানিফ মাস্টার ও এরশাদ মিয়া গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের জেরে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় উভয়পক্ষে নারীসহ কমপক্ষে ৮ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এবং বাড়িঘরে হামলা ও লুটেরও ঘটনা ঘটে। এরই জেরে আজ সকাল ৬টার দিকে বালুচর গ্রামের এরশাদ গ্রুপের লোকজন দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সায়দাবাগ গ্রামের হানিফ মাস্টার গ্রুপের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় হানিফ মাস্টারের লোকজনদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।
অর্থাৎ আলোচ্য ভিডিওটি নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার; কুষ্টিয়ায় বিএনপি নেতার বাড়িতে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের অগ্নিসংযোগের নয়।
সুতরাং নরসিংদীর ভিন্ন ঘটনার ভিডিও দিয়ে কুষ্টিয়ায় বিএনপি নেতার বাড়িতে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা আগুন দিয়েছে দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




