সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মুখে গামছা পেচানো অবস্থায় একটি শিশুর ভিডিও পোস্ট করে বলা হচ্ছে; হিন্দু শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ২৬ ডিসেম্বর ‘Aruyan Rupini’ নামক একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, “এই সাত বছরের শিশুটির অপরাধ সে হিন্দু আর বড় অপরাধ সে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেছেন। আজ সে নেই ধর্ষন শেষে হত্যা করল ইউনোস এর শান্তিবাহিনী ......" (বানান অপরিবর্তিত)। পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি সঠিক নয়। ভিডিওটি কোনো বাস্তব ঘটনার নয় বরং অভিনয়ের দৃশ্য। ভিডিওটির নির্মাতা বুম বাংলাদেশকে জানিয়েছেন, ভিডিওটা তিনি বিনোদনের জন্য তৈরি করেছিলেন। ভিডিওতে অভিনয় করেছেন তার নিজ মেয়ে যে একজন মুসলিম এবং বর্তমানে সুস্থ আছেন।
এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর একই ভিডিওটি ভিন্ন আরেকটি দাবিতে প্রচার হলে তখন দাবিটি যাচাই করে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল বুম বাংলাদেশ। প্রতিবেদনটি দেখুন এখানে।
সে সময়েই পাওয়া গেছে ভিডিওটি ‘সুজন কমেডি’ নামের একটি বিনোদনমূলক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ফেসবুক পেজে ভিডিওটি বিনোদনের উদ্দেশ্যে তৈরি করে আপলোড করা হয়েছিল। পেজটিতে গামছা পেচানো অবস্থায় একই ধরণের আরো কয়েকটি কন্টেন্ট দেখতে পাওয়া যায়। এমনকি পেজটিতে আলোচ্য ভিডিওর ন্যায় একই পোশাক গায়ে থাকা অবস্থার আরো একটি কন্টেন্ট পাওয়া যায়। দেখুন--
সে সময়ে পেজটির সাথে যোগাযোগ করলে বুম বাংলাদেশকে ‘সুজন কমেডি’ পেজের স্বত্বাধিকারী সুজন ভিডিওটির বিষয়ে জানান, “এই ভিডিওটা আমি আসলে বিনোদনের জন্য তৈরি করেছি। এটা একটা অভিনয় ছিল। এটা কোন বাস্তব চিত্র না এই ভিডিওটা ফেসবুক রিমুভ করে দিয়েছে যার কারণে এটা দেখাচ্ছেনা আইডিতে"।
ভিডিওর মধ্যে থাকা শিশুটির বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, "সে হচ্ছে আমার মেয়ে আল্লাহর রহমতে সবার দোয়াতে আমার মেয়ে সুস্থ আছে ..."।
অর্থাৎ ভিডিওটি একটি অভিনয়ের দৃশ্য, বাস্তব কোনো ঘটনার নয়।
সুতরাং সামাজিক মাধ্যমে অভিনয়ের দৃশ্যকে বাস্তব ঘটনার ফুটেজ বলে প্রচার করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর।




