সামাজিকি মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে বলা হয়, কৌতুক অভিনেতা হারুন কিসিঞ্জার মৃত্যুবরণ করেছেন। এরকম কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি '𝐀𝐤𝐫𝐚𝐦 & 𝐌𝐢𝐦 𝐋𝐢𝐟𝐞𝐬𝐭𝐲𝐥𝐞' নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট করে বলা হয়, "ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা হারুন কিসিঞ্জার ইন্তেকাল করেছেন.!" ফেসবুক পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। অভিনেতা হারুন কিসিঞ্জারের মৃত্যুর তথ্য মিথ্যা বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছেলে রুবেল খন্দকার এবং তাঁর একাধিক সহকর্মী।
আলোচ্য তথ্যের সত্যতা জানতে কি-ওয়ার্ড সার্চ করে দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলোর অনলাইন ভার্সনে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি "হারুন কিসিঞ্জারের মৃত্যুর খবর, আসল ঘটনা" শিরোনামে প্রচারিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। এতে বলা হয়, "সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাঝরাতের একটি খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে—কৌতুক অভিনেতা হারুন কিসিঞ্জার আর নেই। ফেসবুক ও টিকটকে একের পর এক পোস্ট, শোকবার্তা আর বিভ্রান্তিকর তথ্য দেখে দুশ্চিন্তায় পড়েন তাঁর ভক্ত–শুভাকাঙ্ক্ষীরা। অথচ কয়েক দিন ধরেই তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হঠাৎ এমন খবর এল কীভাবে—প্রশ্ন উঠতে থাকে সবার মধ্যে। অবশেষে সোমবার সকালে বিষয়টি স্পষ্ট করেন অভিনেতা শামীম হোসেন। হাসপাতাল থেকেই ফেসবুক লাইভে এসে তিনি জানান, হারুন কিসিঞ্জারের মৃত্যুর খবরটি সম্পূর্ণ গুজব।"। স্ক্রিনশট দেখুন--
আরো সার্চ করে দৈনিক পত্রিকা ইত্তেফাকের অনলাইন ভার্সনে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি "হারুন কিসিঞ্জারের মৃত্যুর গুজবে ছেলের ক্ষোভ" শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, "নব্বই দশকের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা হারুন কিসিঞ্জার গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই পরিস্থিতিতে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তার মৃত্যুর ভিত্তিহীন গুজব। ছেলে রুবেল খন্দকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, কিছু অসাধু, বিবেকহীন ও সস্তা ভিউলোভী মানুষ বাবার মৃত্যুর গুজব ছড়াচ্ছে।... তিনি আরও জানিয়েছেন, অভিনেতা আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ আছেন। হাসপাতাল থেকে রিলিজ পেলে আজই বাড়ি ফিরতে পারেন। সেই সাথে ভিত্তিহীন খবরের বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন রুবেল।"। স্ক্রিনশট দেখুন--
এছাড়াও, দৈনিক পত্রিকা কালের কণ্ঠের অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য পাওয়া যায়। স্ক্রিনশট দেখুন--
পরবর্তীতে দৈনিক পত্রিকা কালবেলার অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, হাসপাতালের চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন হারুন কিসিঞ্জার।
অর্থাৎ, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়।
সুতরাং কৌতুকাভিনেতা হারুন কিসিঞ্জারের মৃত্যুর ভুয়া তথ্য প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




