সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে বলা হচ্ছে, ভিডিওটি মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পিটুনি দেওয়ার সময়ে ধারণ করা হয়েছে। এরকম কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ১০ ডিসেম্বর 'Shofiqul Islam' নামে একটি ফেসবুক একাউন্ট থেকে ভিডিওটি শেয়ার করে বলা হয়, "আবারো -মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে যেয়ে মার খেলেন ম্যাজিস্ট্রেট সহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।।"। ফেসবুক পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। পোস্টে দৃশ্যমান ভিডিওটি মিরপুরে ধারণ করা হয়নি। পিরোজপুরে সহকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চালানো কমপ্লিট শাটডাউনকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষক ও একজন অভিভাবকের মধ্যে হাতাহাতইর ঘটনায় আলোচ্য ভিডিওটি ধারণ করা হয়।
আলোচ্য ভিডিওটি সম্পর্কে জানতে ভিডিওটি থেকে কি-ফ্রেম কেটে নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দৈনিক পত্রিকা মানবজমিনের ইউটিউব চ্যানেলে গতবছরের ৪ ডিসেম্বর "কমপ্লিট শাটডাউনকে কেন্দ্র করে নেছারাবাদে শিক্ষক ও অভিভাবকের মধ্যে হা'তাহা'তি | Daily Manabzamin" শিরোনামে আপলোডকৃত আলোচ্য ভিডিওটির মত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ইউটিউব ভিডিওটি দেখুন--
আরো সার্চ করে বেসরকারি সম্প্রচার মাধ্যম দেশ টিভির ফেসবুক পেজেও আলোচ্য ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়। ওই ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনেও লেখা থাকতে দেখা যায়, "পিরোজপুরে কমপ্লিট শাটডাউনকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ও অভিভাবকের মধ্যে হাতাহাতি"। ফেসবুক পোস্টটি দেখুন--
পরবর্তীতে কি-ওয়ার্ড সার্চ করে গত ৪ ডিসেম্বর অনলাইন পোর্টাল ঢাকা মেইলের ওয়েবসাইটে "নেছারাবাদে শিক্ষক–অভিভাবক ধাক্কাধাক্কি, নেতাদের ক্ষোভ" শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, "পিরোজপুরের নেছারাবাদে শিক্ষক ও অভিভাবকের মধ্যে দুই দফায় ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে সহকারী শিক্ষকদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক আদনান হোসনাইন বলেন, সারাদেশে চলমান কর্মবিরতিতে সম্পূর্ণ শাটডাউন চলছে। কিন্তু নেছারাবাদে সহকারী শিক্ষক ছাড়াই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল। আমরা কোনো বাধা দিইনি। তারপও উপজেলার কোথাও কোথাও কয়েকজন ব্যক্তি শিক্ষকদের হুমকি দিচ্ছিল। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আমরা উপজেলা পরিষদে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলাম। এমন সময় রুহুল আমীন নামে একজন এসে গালিগালাজ করেন। প্রতিবাদ করতেই তিনি আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালান।" স্ক্রিনশট দেখুন--
এছাড়াও দৈনিক পত্রিকা মানবজমিন এবং বেসরকারি সম্প্রচার মাধ্যম মোহনা টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিও প্রতিবেদন থেকেও আলোচ্য ভিডিওটির ব্যাপারে একই তথ্য জানা যায়।
অর্থাৎ আলোচ্য দাবিটি সঠিক নয়। ভিডিওটি মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পিটুনির শিকার হওয়ার সময়কার নয়। গত ডিসেম্বরে পিরোজপুরের আন্দোলনরত সহকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষকের সাথে একজন অভিভাবকের হাতাহাতির সময়ে ধারণ করা হয়।
সুতরাং শিক্ষক ও অভিভাবকের মধ্যে হাতাহাতির ভিডিওকে ভিত্তিহীন দাবিসহ প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে যা বিভ্রান্তিকর।




