সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে একটি পাম্পে অগ্নিসংযোগোর ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, পেট্রোল পাম্পে তেল না পেয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে জনগণ। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
গত ৭ মার্চ ‘মোঃ মামুন মিয়া’ নামক একটি আইডি থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে উল্লেখ করা হয়, “পেট্রোল পাম্পে তেল না পেয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে জনতার উচ্ছ্বাস।” নিচে পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, ভিডিওটি বাস্তব নয়। অর্থাৎ ভিডিওটি বাস্তব দৃশ্যের নয় বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।
আলোচ্য ভিডিওটির কি ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে গ্রহণযোগ্য কোনো মাধ্যমে দাবি অনুযায়ী ভিডিওটি বাস্তব হওয়ার বিষয়ে কিংবা ভিডিওটির বিষয়েও উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের হাত, আঙুল এবং শরীরের নড়াচড়া অনেক ক্ষেত্রে অবাস্তব। আগুনের শিখা এবং ধোঁয়ার নড়াচড়া বাস্তবসম্মত মনে হলেও, পেছনের মানুষজন এবং গাড়ির নড়াচড়ায় এক ধরনের কৃত্রিমতা বা 'গ্লিচ' লক্ষ্য করা যায়। অনেক সময় দেখা যায় পেছনের চরিত্রগুলো হঠাৎ করে মিলিয়ে যাচ্ছে বা আকৃতি পরিবর্তন করছে। ফিলিং স্টেশনের পাম্প বা সাইনবোর্ডে যে ধরনের লেখা বা লোগো থাকার কথা, সেগুলো এখানে অস্পষ্ট এবং পড়ার অযোগ্য। ভিডিওর কিছু অংশে পিক্সেল ফেটে যাওয়া বা ধোঁয়া এবং মানুষের শরীরের সীমানায় এক ধরনের ঝাপসা ভাব (blending) দেখা যাচ্ছে। আগুনের এত কাছে থাকা সত্ত্বেও মানুষের প্রতিক্রিয়ায় যে ধরনের শারীরিক উত্তাপ বা বাতাসের প্রভাব থাকা উচিত, তা অনেক ক্ষেত্রে অনুপস্থিত।
পাশাপাশি, ভিডিওতে বাস্তব এমন দৃশ্যের অডিওর তুলনায় বক্তার কথা বলার সাউন্ড কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। গুগলের ভিও-৩ বা তার পরবর্তী সংস্করণের মডেল ব্যবহার করে তৈরি করা এআই ভিডিওতে অডিওর এমন উচ্চতর আউটপুট শোনা যায়।
পরবর্তীতে, এআই-ডিপফেক কন্টেন্ট শনাক্তকরণ টুল 'DeepFake-o-meter' ব্যবহার করে ভিডিওটি যাচাই করা হয়। টুলটি ভিডিওটিকে সম্ভাব্য এআই দ্বারা তৈরি ভিডিও হিসেবে ফলাফল প্রদান করেছে। ভিডিওর ফলাফলের স্ক্রিনশট দেখুন--
এছাড়া এআই ভিডিও শনাক্তের আরেক টুল 'সাইট ইন্জিন' ব্যবহার করেও ভিডিওটি যাচাই করা হয়। এই টুলটিও ভিডিওটিকে সম্ভাব্য এআই দ্বারা তৈরি ভিডিও হিসেবে ফলাফল প্রদান করেছে। ভিডিওটির ফলাফলের স্ক্রিনশট দেখুন--
অর্থাৎ আলোচ্য ভিডিওটি বাস্তব নয় বরং এটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ভিডিওকে পেট্রোল পাম্পে তেল না পেয়ে জনতা পাম্পে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




