সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে বলা হচ্ছে, কূটনীতিক রাবাব ফাতিমা ২০১৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরকম কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর 'BSL Media Cell- HSTU' নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট করে বলা হয়, "বিএনপি শুধু ভাবছে ওদের কেউ জাতিসংঘে সভাপতি হইছে ওদের আগে শেখ হাসিনার ইতিহাস গড়া রাবাব ফাতিমা জাতিসংঘ সভাপতি ২০১৬। আপনারা প্লিজ ইতিহাস জানুন,আপনাদের নিয়ে মানুষ টিটকারি করে ভাই যাস্ট টিটকারি করে।" স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। রাবাব ফাতিমা ২০১৬ সালে জাতিসংঘের কোনো পদে ছিলেন না বরং জাপানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। তিনি ২০১৯ জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি নিযুক্ত হন। তবে, তিনি কখনোই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি ছিলেন না।
আলোচ্য দাবিটির সত্যতা জানতে কি-ওয়ার্ড সার্চ করে জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে "Ms. Rabab Fatima Under Secretary-General and High Representative for the Least Developed Countries, Landlocked Developing Countries and Small Island Developing States." শিরোনামে রাবাব ফাতিমার নামে লেখা একটি পরিচিতি খুঁজে পাওয়া যায়। ওই পরিচিতি থেকে জানা যায়, রাবাব ফাতিমা ২০১৬ সালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মহাপরিচালক এবং জাপানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হয়ে কাজ করছিলেন। ওই পরিচিতিতে বলা হয়, "As a career diplomat of Bangladesh, Ms. Fatima was the Ambassador of Bangladesh to Japan (2016-2019). She served as Director-General of the Ministry of Foreign Affairs in Bangladesh (2015-2016), Regional Representative for South Asia (2007-2011) and Regional Adviser for South and South-West Asia and Regional Adviser for Climate Change and Migration (2012-2015) of the International Organization for Migration (IOM), Geneva, and was Head of Human Rights at the Commonwealth Secretariat, London (2006-2007) (বাংলাদেশের একজন পেশাদার কূটনীতিক হিসেবে মিসেস ফাতিমা জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত (২০১৬-২০১৯) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মহাপরিচালক (২০১৫-২০১৬); জেনেভাস্থ ‘ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন’ (আইওএম)-এ দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রতিনিধি (২০০৭-২০১১) এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক উপদেষ্টা ও জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিবাসন বিষয়ক আঞ্চলিক উপদেষ্টা (২০১২-২০১৫); এবং লন্ডনে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটে মানবাধিকার বিভাগের প্রধান (২০০৬-২০০৭) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। -অনূদিত)"। এছাড়াও রাবাব ফাতিমার ব্যাপারে আরো বলা হয়, "Ms. Rabab Fatima was appointed as the Under Secretary-General and High Representative for the Least Developed Countries (LDCs), Landlocked Developing Countries (LLDCs) and Small Island Developing States (SIDS) in August 2022 by the United Nations Secretary-General. (জাতিসংঘের মহাসচিব ২০২২ সালের আগস্ট মাসে মিস রাবাব ফাতিমাকে স্বল্পোন্নত দেশ (LDCs), স্থলবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ (LLDCs) এবং ক্ষুদ্র দ্বীপ-রাষ্ট্রসমূহের (SIDS) বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল ও উচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন।- অনূদিত)"। স্ক্রিনশট দেখুন--
আরো সার্চ করে জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে "Past Presidents" শিরোনামে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দায়িত্ব পালন করা সভাপতিদের একটি তালিকা খুঁজে পাওয়া যায়। ওই তালিকায় ২০১৬ সালে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা দুজন ব্যক্তির নাম খুঁজে পাওয়া যায়। ওই দুজন ব্যক্তি হলেন ডেনমার্কের নাগরিক Mr. Mogens Lykketoft এবং ফিজির নাগরিক Mr. Peter Thomson। স্ক্রিনশট দেখুন--
উল্লেখ্য, গত ২ জুন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। অন্যদিকে, কূটনীতিক রাবাব ফাতিমা জাতিসংঘে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করলেও কখনো সাধারণ পরিষদের সভাপতি ছিলেন না। রাবাব ফাতিমা বর্তমানে আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশনের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে দুজন ব্যক্তি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হয়েছেন। খলিলুর রহমানের আগে ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
অর্থাৎ, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। রাবাব ফাতিমা ২০১৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সদস্য ছিলেন না বরং জাপানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। রাবাব ফাতিমা তিনি কখনোই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি ছিলেন না।
সুতরাং রাবাব ফাতিমা জাতিসংঘের সভাপতি ছিলেন বলে প্রচারিত তথ্যটি সঠিক নয়।




