সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক নারীর ব্যাগ ছিনতাইয়ের একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত আলোচ্য ভিডিওটিসহ কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ২৯শে সেপ্টেম্বর ‘Faceless Democracy - মুখহীন গণতন্ত্র’ নামক একটি ফেসবুক হ্যান্ডেল থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। যেখানে উল্লেখ করা হয়, “এত অনিরাপদ দেশ আগে কখনো দেখেছেন বলেন তো?” পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি সঠিক নয়। আলোচ্য এটি ভারতের উত্তরপ্রদেশে গত ৬ মে রাতে ৪৫ বছর বয়সী অনিতা দেবী নামের এক নারীর ব্যাগ ছিনতাইয়ের চেষ্টার ভিডিও। ভারতে সংঘটিত ভিডিওকে বাংলাদেশের ঘটনা বলে প্রচার করা হয়েছে।
ভিডিও থেকে কী-ফ্রেম নিয়ে অনুসন্ধানে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'টাইমস অব ইন্ডিয়া'র সাইটে গত ১৭ মে "45-year-old UP woman fights snatchers for 23 minutes; 2 aarrested after encounter" শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে আলোচ্য ভিডিওটির একটি স্থিরচিত্র পাওয়া যায়। এতে উল্লেখ করা হয়, উত্তরপ্রদেশের এটার জাইথরা এলাকায় গত ৬ মে রাতে ৪৫ বছর বয়সী অনিতা দেবী নামের এক নারী তাঁর ব্যাগ ছিনতাইয়ের চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রায় ২৩ মিনিট ধরে দুই বাইকআরোহী ছিনতাইকারীর সাথে লড়াই করেন। প্রচারিত ভিডিওটির স্ক্রিনশট (বামে) ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট (ডানে) পাশাপাশি মিল দেখুন --
সার্চ করে ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও খবরটি পাওয়া যায় (১, ২, ৩)। আলোচ্য ভিডিওটির স্থিরচিত্রসহ প্রচারিত খবরগুলোতেও একই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রচণ্ড আঘাত সহ্য করেও অনিতা দেবী ব্যাগের দখল ছাড়েননি এবং চিৎকার করতে থাকেন। ২০০ মিটার দূরে থাকা দুজন লোক তার চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে ছিনতাইকারীরা বাইক নিয়ে পালিয়ে যায়।
আরও উল্লেখ করা হয়, সিসিটিভি ফুটেজ এবং আশেপাশের বিভিন্ন ক্যামেরা স্ক্যান করে পুলিশ আসামিদের শনাক্ত করে। পরে পুলিশের সাথে এক বন্দুকযুদ্ধের (এনকাউন্টার) পর মোটরসাইকেল চালক শাকিল খান এবং পেছন থাকা আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই গোলাগুলিতে আসামিদের একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।
অর্থাৎ, ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো ছিনতাই চেষ্টার ঘটনার নয়; বরং এটি ভারতের ঘটনার ভিডিও।
সুতরাং, সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ভারতের ছিনতাই চেষ্টার ঘটনার ভিডিও বাংলাদেশের ঘটনা বলে বিভ্রান্তিকর দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।




