সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বেশ লম্বা দাঁড়ি সহ এক বৃদ্ধ ব্যক্তি বলছেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দাঁড়িওয়ালা মানুষ তিনি এবং তার দাঁড়ি চার হাত লম্বা। এছাড়াও তিনি হজ্বে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ সহ আরও বেশকিছু মন্তব্য করেছেন। এ ধরনের একটি পোস্ট দেখুন এখানে। একই ভিডিওটির স্থিরচিত্র যুক্ত একটি পোস্ট দেখুন এখানে।
গত ২০ জানুয়ারি 'Viral BD Shorts' নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি সঠিক নয়। ভিডিওটি লম্বা দাঁড়িওয়ালা বাস্তবের কোনো ব্যক্তির নয় বরং এআই প্রযুক্তিতে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।
আলোচ্য ভিডিওটি থেকে কী-ফ্রেম নিয়ে সার্চ করে এবং একইসাথে ভিডিওতে প্রচারিত দাবি (বক্তব্য) সরাসরি সার্চ করে গণমাধ্যমসহ গ্রহণযোগ্য কোনো মাধ্যমে কোনো উল্লেখযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ভিডিওটি পর্যবেক্ষণে কথা বলার সময় কথিত ব্যক্তির মুখের ভঙ্গিমা, পেছনের দৃশ্য সহ বেশ কয়েকটি অসঙ্গতি পাওয়া যায়।
এছাড়াও, ভিডিওতে বাস্তব দৃশ্যের অডিওর তুলনায় বক্তার কথা বলার সাউন্ড কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। গুগলের ভিও-৩ বা তার পরবর্তী সংস্করণের মডেল ব্যবহার করে তৈরি করা এআই ভিডিওতে অডিওর এমন উচ্চ মাত্রার আউটপুট শোনা যায়।
গুগল 'Veo' হলো গুগলের একটি প্রায় বাস্তবসম্মত ভিডিও জেনারেশন টুল যা গুগল ডিপমাইন্ড দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। এটি টেক্সট-টু-ভিডিও জেনারেশন, ইমেজ-টু-ভিডিও তৈরি করার টুল এবং সর্বশেষ সংস্করণ, Veo-3 (ভিও-৩) ভিডিওর পাশাপাশি নেটিভ অডিও তৈরি করতে পারে।
এছাড়াও গুগলের জেনারেটিভ টুল তাদের কনটেন্টে 'SynthID' নামক এক ধরনের ওয়াটারমার্কিং ব্যবহার করে যা শোনা যায় না বা খালি চোখে শনাক্ত করা যায় না। তবে গুগলের SynthID ডিটেকশন টুলটি সেটি শনাক্ত করতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় যাচাই করলে টুলটি আলোচ্য ভিডিওটিকে 'গুগলের এআই টুল দিয়ে তৈরি' বলে ফলাফল দিয়েছে। দেখুন--
অর্থাৎ ভিডিওটি এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং সামাজিক মাধ্যমে এআই প্রযুক্তিতে তৈরি একটি ভিডিওকে বাস্তবে এক ব্যক্তির দেওয়া বক্তব্যের বলে প্রচার করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর।




