সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে, এতে দেখা যাচ্ছে শাঁখা-সিঁদুর পরা এক হিন্দু নারী বলছেন, “জামায়াতের প্রতি আমার দৃঢ় আস্থা আছে। আমার বিশ্বাস তারা খুব সুন্দরভাবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে দুর্নীতি, সন্ত্রাসী এবং চাঁদাবাজমুক্ত একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। তাই অবশ্যই আগামীতে জামায়াতকে সংসদে নিয়ে দেশ গড়ার এই সুযোগ করে দিতে হবে। .........”। এরকম একটি পোস্ট দেখুন এখানে।
গত ২ জানুয়ারি 'বাংলা ফ্রেশ নিউজ' নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। পোস্টে উল্লেখ করা হয় "বৌদি জামাতকে কেন এত বেশি ভালোবাসে" পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন --
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি সঠিক নয়। ভিডিওটি কোনো হিন্দু নারীর জামায়াতকে ঘিরে দেওয়া আসল বক্তব্যের নয় বরং ভিডিওটি এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে।
আলোচ্য ভিডিওটি থেকে কী-ফ্রেম নিয়ে সার্চ করে কোনো উল্লেখযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ভিডিওটি পর্যবেক্ষণে কথা বলার সময় কথিত নারীর মুখের ভঙ্গিমায় কিছু অসঙ্গতি পাওয়া যায়। এছাড়াও, ভিডিওতে বাস্তব দৃশ্যের অডিওর তুলনায় বক্তার কথা বলার সাউন্ড কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। গুগলের ভিও-৩ বা তার পরবর্তী সংস্করণের মডেল ব্যবহার করে তৈরি করা এআই ভিডিওতে অডিওর এমন উচ্চ মাত্রার আউটপুট শোনা যায়।
গুগল 'Veo' হলো গুগলের একটি প্রায় বাস্তবসম্মত ভিডিও জেনারেশন টুল যা গুগল ডিপমাইন্ড দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। এটি টেক্সট-টু-ভিডিও জেনারেশন, ইমেজ-টু-ভিডিও তৈরি করার টুল এবং সর্বশেষ সংস্করণ, Veo-3 (ভিও-৩) ভিডিওর পাশাপাশি নেটিভ অডিও তৈরি করতে পারে।
এছাড়াও গুগলের জেনারেটিভ টুল তাদের কন্টেন্টে 'SynthID' নামক এক ধরণের ওয়াটারমার্কিং ব্যবহার করে যা শোনা যায় না বা খালি চোখে শনাক্ত করা যায়না। তবে গুগলের SynthID ডিটেকশন টুল সেটি শনাক্ত করতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় যাচাই করলে টুলটি আলোচ্য ভিডিওটিকে 'গুগলের এআই টুল দিয়ে তৈরি' বলে ফলাফল দিয়েছে। দেখুন --
অর্থাৎ ভিডিওটি বাস্তব দৃশ্যের নয় ।
সুতরাং সামাজিক মাধ্যমে এআই প্রযুক্তিতে তৈরি একটি ভিডিওকে বাস্তবে একজন হিন্দু নারীর দেওয়া বক্তব্যের ভিডিও বলে প্রচার করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর।




