সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, মেট্রোরেল থেকে লাফ দিয়ে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
গত ৮ এপ্রিল ‘MD Roman Hossain’ নামক একটি আইডি থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে উল্লেখ করা হয়, “মিরপুর 13 তে কি হলো।”নিচে পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, ভিডিওটি বাস্তব নয়। অর্থাৎ ভিডিওটি বাস্তব দৃশ্যের নয় বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।
আলোচ্য ভিডিওটির কি ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে গ্রহণযোগ্য কোনো মাধ্যমে দাবি অনুযায়ী ভিডিওটি বাস্তব হওয়ার বিষয়ে কিংবা ভিডিওটির বিষয়েও উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ভিডিওতে ওপর থেকে নিচে লাফিয়ে পড়া ব্যক্তিটি নিচ দিয়ে হাটা অপর একজনের ওপরে পড়লেও পরবর্তীতে হাটা ব্যক্তিটি অদৃশ্য হয়ে যায়, যা অস্বাভাবিক। পরে লাফিয়ে পড়া ব্যক্তির ওপর দিয়ে একটি গাড়ি গেলেও সেটির গতিবিধিতে অসংগতি দেখা যায়। মানুষের হাঁটাচলার মধ্যে কৃত্রিমতা লক্ষ্য করা যায়।
পরবর্তীতে, গুগলের জেনারেটিভ টুল তাদের কন্টেন্টে 'SynthID' নামক এক ধরণের ওয়াটারমার্কিং ব্যবহার করে যা শোনা যায় না বা খালি চোখে শনাক্ত করা যায়না। তবে গুগলের SynthID ডিটেকশন টুল সেটি শনাক্ত করতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় যাচাই করলে টুলটি আলোচ্য ভিডিওটিকে 'গুগলের এআই টুল দিয়ে তৈরি' বলে ফলাফল দিয়েছে। স্ক্রিনশট দেখুন--
ভিডিওতে 'SynthID' শনাক্ত করলেও টুলটি অডিওতে 'SynthID' শনাক্ত করতে পারেনি। সাধারণত একটি ভিও-জেনারেটেড ভিডিওর কোয়ালিটি বিভিন্ন কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় কম হয়ে গেলে কিংবা সম্পাদনার কারণে কম্প্রেস হলে 'SynthID' ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে কিংবা শনাক্ত হয়না। অথবা ভিডিওর অডিও পরিবর্তন করে ভিন্ন কোনো অডিও বা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক যুক্ত করলেও অডিওতে 'SynthID' শনাক্ত হওয়ার সুযোগ নেই।
পরবর্তীতে আরেক জেনারেটিভ কন্টেন্ট শনাক্তকরণ টুল 'Hive'-এর মাধ্যমে যাচাই করলেও টুলটি কনটেন্টটিকে ৯৯.৯% সম্ভাব্য এআই দ্বারা তৈরি বলে ফলাফল দিয়েছে। টুলটি এমনকি ভিডিওটিকে সম্ভাব্য ভিও টুলের (গুগলের ভিডিও জেনারেটিভ মডেল) মাধ্যমে তৈরি বলেই ফলাফল দিয়েছে। স্ক্রিনশট দেখুন--
অর্থাৎ আলোচ্য ভিডিওটি বাস্তব নয় বরং এটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ভিডিওকে মেট্রোরেল থেকে লাফ দিয়ে এক ব্যক্তির আত্মহত্যা দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




