সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে সমকালের প্রতিবেদনের একটি স্ক্রিনশট পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১১শ' কোটি টাকা কর ফাঁকি দিয়েছেন। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
গত ১৭ আগস্ট ‘Saifur Rahman Sohag’ নামক একটি আইডি থেকে স্ক্রিনশটটি পোস্ট করে উল্লেখ করা হয়, “১১শ' কোটি টাকা কর ফাঁকি দিয়েছে বাটপার সুদী ইউনুস- এনবিআর।” নিচে পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য দাবিটি বিভ্রান্তিকর। প্রকৃতপক্ষে “১১শ’ কোটি টাকা কর ফাঁকি দিয়েছেন ড. ইউনুস: এনবিআর” শিরোনামে সমকালের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সাম্প্রতিক নয় বরং এটি ২০২৩ সালের মে মাসে সমকালের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের স্ক্রিনশটের।
কি ওয়ার্ড সার্চ করে “১১শ’ কোটি টাকা কর ফাঁকি দিয়েছেন ড. ইউনুস: এনবিআর” শিরোনামে জাতীয় দৈনিক ‘সমকালে’র ওয়েবসাইটে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ২০২৩ সালের ৭ মে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সঙ্গে ভাইরাল স্ক্রিনশটের শিরোনাম ও ছবির মিল খুঁজে পাওয়া যায়। স্ক্রিনশট দেখুন--
প্রতিবেদনটির ওপরের বাম পাশে নিয়মিত তারিখ প্রদর্শন করা হয়। তবে, প্রতিবেদনটির বাইলাইনের নিচে বাম পাশে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার তারিখ বাদ দিয়ে ভাইরাল স্ক্রিনশটটি নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনটির বিবরণীতে দেওয়া আছে, ২০২৩ সালে হাইকোর্টে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) করা এক মামলায় উল্লেখ্য করা হয়, পাঁচ বছরে এক হাজার ১০০ কোটি টাকা কর ফাঁকি দিয়েছেন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুস। রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সরকারের পাওনা অর্থগুলোর মধ্যে একটি হলো গ্রামীণ কল্যাণ ৫৭৬ কোটি ৯৪ লাখ ৫৭ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। গ্রামীণ কল্যাণের আরেকটিতে ৩৫৪ কোটি ৭৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫৪৭ টাকা এবং গ্রামীণ টেলিকমের একটিতে সরকারের পাওনা ২১৫ কোটি টাকা।
এদিকে, কি ওয়ার্ড সার্চ করে আলোচ্য তথ্যের ওপর এনবিআর থেকে সম্প্রতি অথবা ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানের পর কোনো ধরণের মামলা বা অভিযোগের ব্যাপারে তথ্য বা প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে, সংশ্লিষ্ট কি ওয়ার্ড সার্চ করে “ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের রায় প্রত্যাহার” শিরোনামে ‘ইত্তেফাকে’র একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিদেনটিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা দেওয়ার রায় স্বপ্রণোদিতভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন হাইকোর্ট। স্ক্রিনশট দেখুন--
অর্থাৎ সমকালের প্রতিবেদনটি ২০২৩ সালের পুরোনো; সাম্প্রতিক নয়।
সুতরাং ড. ইউনূস বিরুদ্ধে এনবিআর কর্তৃক ১১শ’ কোটি টাকা কর ফাঁকির পুরোনো প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট বিভ্রন্তিকরভাবে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে।