সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে পুলিশের হাতে তিন ব্যক্তির গ্রেফতারের একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, মাথার খুলি ও কঙ্কালসহ সমন্বয়ক মোস্তাক ও ৩ জন গ্রেফতার। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
গত ১১ মার্চ ‘বঙ্গবন্ধু"র বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটি’ নামক একটি পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে উল্লেখ করা হয়, “৪৭টি মাথার খু'লি ও কঙ্কাল সহ সমন্বয়ক মোস্তাক ও ৩ জন গ্রে'ফ'তার। পুলিশ হত্যার বিচারের কথা শোনার পর পর এই খুলি উদ্ধার হয়, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ মন্তব্য করছেন জুলাই আগস্ট জঙ্গি হামলায় যে পুলিশ নিহত হয়েছিল তাদেরই খুলি এবং কঙ্কাল হতে পারে।” নিচে পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে আলোচ্য ভিডিওটি রাজধানীতে ৪৭টি মাথার খুলি ও মানবদেহের হাড় উদ্ধারের ঘটনায় চারজন ব্যক্তি গ্রেফতারের; এর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো সমন্বয়কের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
সংশ্লিষ্ট কি ওয়ার্ড সার্চ করে “ঢাকায় ৪৭টি মাথার খুলি ও বিপুল হাড়: কীভাবে উদ্ধার হলো” শিরোনামে ‘The Daily Star’ এর ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। গত ১০ মার্চ প্রকাশিত ভিডিওর সঙ্গে ফেসবুকে আলোচ্য দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর মিল পাওয়া যায়। যেখানে বলা হয়, গত রোববার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে মনিপুরীপাড়া এলাকা থেকে কাজী জহুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে মাথার খুলিসহ একটি মানবকঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি কবরস্থান থেকে মানবকঙ্কাল সংগ্রহ করে বিক্রি করতেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন সোমবার সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে তেজগাঁও কলেজের সামনে অভিযান চালিয়ে আবুল কালাম ও আসাদুল মুন্সী নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে মাথার খুলিসহ দুটি মানবকঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। ভিডিওটি দেখুন--
আলোচ্য তথ্যের ভিত্তিতে কি ওয়ার্ড সার্চ করে “রাজধানীতে ৪৭টি মাথার খুলি ও মানবদেহের হাড় উদ্ধার: গ্রেপ্তার ৪ জন কারাগারে” শিরোনামে সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’ এর ওয়েবসাইটে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। গত ১০ মার্চ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪৭টি মাথার খুলি ও মানবদেহের বিপুল পরিমাণ হাড় উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মনিপুরীপাড়া থেকে কাজী জহুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে তেজগাঁও থানার পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে মাথার খুলিসহ একটি মানবকঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। তিনি কবরস্থান থেকে মানবকঙ্কাল সংগ্রহ করে বিক্রয় করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে তেজগাঁও কলেজের সামনে অভিযান চালিয়ে আবুল কালাম ও আসাদুল মুন্সীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে মাথার খুলিসহ দুটি মানবকঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। এরপর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে উত্তরার সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ফয়সাল নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে মাথার খুলিসহ ৪৪টি মানবকঙ্কাল জব্দ করা হয়। এসব কঙ্কাল দেশের বিভিন্ন এলাকার কবরস্থান থেকে অবৈধভাবে খুঁড়ে তোলা হয়েছিল। স্ক্রিনশট দেখুন--
আলোচ্য প্রতিবেদনগুলোতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কোনো ধরণের সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি কি ওয়ার্ড সার্চ করেও এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ আলোচ্য ভিডিওটিতে মাথার খুলি ও কঙ্কালসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের সঙ্গে সমন্বয়কের কোনো সম্পর্ক নেই।
সুতরাং ভিন্ন ঘটনার ভিডিও দিয়ে মাথার খুলি ও কঙ্কালসহ সমন্বয়ক গ্রেফতার দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




