সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো অপরাধের দায় নেবেনা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এমন তথ্য জানিয়ে জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এমন কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে ও এখানে।
আজ ১২ ফেব্রুয়ারি 'ডাঃ সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা' নামক একটি পেজ থেকে এরকম একটি পোস্ট করা হয়। পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
এছাড়াও দৈনিক যুগান্তরের ফটোকার্ড ফরম্যাটেও দাবিটি প্রচার করা হলেও পরবর্তীতে বেশকিছু পেজ থেকে ফটোকার্ডটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এরকম একটি ফটোকার্ডকে নিয়ে যাচাইকৃত পোস্ট দেখুন এখানে।
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি সঠিক নয় এবং এ সংক্রান্ত ফটোকার্ডটিও সম্পাদিত। যুগান্তর সহ মূলধারার কোনো গণমাধ্যমে এই খবরটি কোনো সংস্করণেই পাওয়া যায়নি এছাড়াও নাহিদ ইসলাম, এনসিপির অফিশিয়াল সোশ্যাল হ্যান্ডেলগুলোতেও এরকম কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সার্চ করে মূলধারার কোনো গণমাধ্যমে এই সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি দৈনিক যুগান্তরের ফেসবুক পেজেও উল্লিখিত তারিখ অনুযায়ী এই খবর সংক্রান্ত কোনো ফটোকার্ডও পাওয়া যায়নি। দেখুন--
এছাড়াও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ও নাহিদ ইসলামের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজও এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি ফটোকার্ডে প্রচারিত ছবিটি ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকেই গণমাধ্যমে রয়েছে।
এদিকে সার্চ করে আজ ১২ ফেব্রুয়ারি দৈনিক যুগান্তরের অনলাইনে প্রচারিত "সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে ১১ দলীয় জোট: নাহিদ ইসলাম" শীর্ষক শিরোনামে প্রচারিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, 'ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ১৬২, একেএম রহমত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে এ কথা বলেন তিনি।'
অর্থাৎ এনসিপি জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয়নি।
সুতরাং ভিত্তিহীন ফটোকার্ড বানিয়ে নাহিদ ইসলামের নামে ভুয়া মন্তব্য যুক্ত করে এনসিপি জোট ছাড়ার বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।




