সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে বলা হচ্ছে, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সম্প্রতি বাংলাদেশে সফরের প্রতিবাদে পাকিস্তানি দূতাবাসে ঘেরাও ও হামলা চালিয়ে পাকিস্তানি হাইকমিশনারকে আটকে রেখেছে জনতা। এরকম কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ২৩ আগস্ট 'জয় বাংলা জয়' নামে একটি ফেসবুক একাউন্ট থেকে ভিডিওটি শেয়ার করে বলা হয়, "এই মুহূর্তে পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা সফরের প্র'তি'বা'দে, সাধারণ জনগণ পাকিস্তানি দূতাবাসে হা'ম'লা ও ঘে'রা'ও.... অবরুদ্ধ পাকিস্তানি হাইকমিশনার।।।।"। ফেসবুক পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। গত ১৫ আগস্ট যাত্রীছাউনি ভাঙা নিয়ে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। ওই সংঘর্ষ চলাকালে একটি রেস্তোরাঁ ভাঙচুর করার সময়ে আলোচ্য ভিডিওটি ধারণ করা হয়।
আলোচ্য ভিডিওটি সম্পর্কে জানতে ভিডিওটি থেকে কি-ফ্রেম কেটে নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে 'গজারিয়া ইউনিয়ন অনলাইন নিউজ' নামে একটি ফেসবুক পেজে আলোচ্য ভিডিওটির মত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়, "🇧🇩লালাবাজার পাপড়ি রেষ্টুরেন্ট ভাঙ্গচুর,❤️"। স্ক্রিনশট দেখুন--
এছাড়াও একই দাবিসহ Giyas Sany II এবং Shakil Ahmed নামে দুটি একাউন্ট থেকেও উপরের দাবিসহ পোস্ট করা আলোচ্য ভিডিওটির মত ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে কি-ওয়ার্ড সার্চ করে দৈনিক পত্রিকা আজকের পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে গত ১৬ আগস্ট "যাত্রীছাউনি ভাঙা নিয়ে সিলেটে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫" শিরোনামে প্রচারিত একটি প্রতিবেদনে আলোচ্য ভিডিওটির মত একটি স্থিরচিত্র খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, "সিলেটের দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারে যাত্রীছাউনি ভাঙা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়েছে দুই পক্ষ। গতকাল শুক্রবার রাতের এই সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে একটি রেস্তোরাঁ ভাঙচুর করা হয়। গতকাল রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের লালাবাজার এলাকায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। এ সময় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। জানা গেছে, সিলেটের দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারে নর্দমার নির্মাণকাজ চলছে। বাজারের মসজিদের পাশে থাকা একটি যাত্রীছাউনি ভাঙা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। ছাউনি ভেঙে নর্দমা নির্মাণের পক্ষে ছিলেন লালাবাজার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান চৌধুরী ও তাঁর সমর্থকেরা। আর ছাউনি রেখে কাজ করার পক্ষে বাজারের ব্যবসায়ী ও মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ জুবায়ের আহমদ ও তাঁর পক্ষের লোকজন। জুবায়ের আহমদ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হলেও তাঁর কোনো পদপদবি নেই। বাজারে তাঁর ‘পাপড়ি রেস্টুরেন্ট’ নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। আমিনুর রহমান ও জুবায়ের আহমদ দুজনই আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। এ কারণে তাঁদের আগে থেকেই রেষারেষির সম্পর্ক ছিল। গতকাল রাত ৮টার দিকে ছাউনি ভাঙা নিয়ে দুই পক্ষের বাদানুবাদ হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা চলা এ সংঘর্ষে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন আহত হন। এ সময় জুবায়ের আহমদের রেস্টুরেন্টটি ভাঙচুর করা হয়।"। ফেসবুক পোস্টটি দেখুন--
পরবর্তীতে আরো কি-ওয়ার্ড সার্চ করে সিলেট থেকে প্রকাশিত অনলাইন পোর্টাল শ্যামল সিলেট, সুরমানিউজ ২৪ এবং বিয়ানিবাজার টাইমসের ওয়েবসাইটেও আলোচ্য ভিডিওটির মত স্থিরচিত্রসহ একই তথ্যসহ প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। আলোচ্য ভিডিওটি সম্প্রতি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বাংলাদেশ সফরে আসায় কোনো প্রতিবাদের নয়। ভিডিওটি গত ১৫ আগস্ট সিলেটে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে ধারণ করা হয়।
উল্লেখ্য গত ২৩ আগস্ট পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসেন।
সুতরাং সিলেটে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলার সময়ে ধারণ করা ভিডিওকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে পাকিস্তান দুতাবাস ঘেরাওয়ের ঘটনার ভিডিও বলে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।