সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে পুলিশের হাতে আটক এক ব্যক্তির একটি ছবি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, ৬ বছরের শিশুকে মসজিদে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে জামায়াত ইসলামীর এক কর্মীকে গ্রেফতার আটক করেছে পুলিশ। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
গত ২১ এপ্রিল ‘The Daily DUCSU’ নামক একটি পেজ থেকে ছবিটি পোস্ট করে উল্লেখ করা হয়, “৬ বছরের শিশুকে মসজিদে ডেকে নিয়ে ধ/র্ষ/ণ চেষ্টা জামায়াত কর্মী গ্রেফতার।” নিচে পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আবুল বাশার ফরাজি নামে আটককৃত ব্যক্তিটি একজন মসজিদের ইমাম। তিনি জামায়াত ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার কোনো তথ্য গ্রহণযোগ্য কোনো মাধ্যমে পাওয়া যায়নি।
ভাইরাল ছবিটির রিভার্স ইমেজ সার্চ করে “মসজিদে ডেকে নিয়ে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, ইমাম গ্রেপ্তার” শিরোনামে অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ঢাকা পোস্ট’ এর ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। যেই প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবির সঙ্গে ফেসবুকে আলোচ্য দাবিতে প্রচারিত ছবির মিল পাওয়া যায়। যেখানে বলা হয়, শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় মসজিদের ভেতরে ডেকে নিয়ে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আবুল বাশার ফরাজি (৬০) নামে এক ইমামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০ এপ্রিল বিকেলে উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের সরদার কান্দি বাইতুল মামুর জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত আবুল বাশার ফরাজি জয়নগর ইউনিয়নের ছোট গোপালপুর গ্রামের মৃত আফতাব উদ্দিন ফরাজির ছেলে। তিনি জয়নগর সরদার কান্দি বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম এবং স্থানীয় জামিয়াতুস সুন্নাহ হাফেজিয়া মহিলা মাদরাসার শিক্ষক। স্ক্রিনশট দেখুন--
আলোচ্য প্রতিবেদনে আটককৃত ইমামের সঙ্গে কোনো দলের রাজনীতি সংশ্লিষ্টতা নিয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পাশাপাশি, কি ওয়ার্ড সার্চ করে “মসজিদের ভেতরে শিশুকে ‘ধর্ষণ’ চেষ্টার অভিযোগে ইমাম আটক” শিরোনামে বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘বাংলা ভিশনে’র ওয়েবসাইটে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবির সঙ্গে ফেসবুকে প্রচারিত ছবির মিল পাওয়া যায়। যেখানে বলা হয়, গ্রেফতার আবুল বাশার জয়নগর ইউনিয়নের ছোটগোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন এবং পাশের একটি মহিলা মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন বলে জানা গেছে। আলোচ্য প্রতিবেদনেও আটককৃত ব্যক্তির পরিচয় হিসেবে মসজিদের ইমাম ও একটি মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ্য করা হয়েছে। কিন্তু তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্ক্রিনশট দেখুন--
অর্থাৎ মসজিদে ডেকে নিয়ে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটককৃত ব্যক্তিটি একটি মসজিদের ইমাম। তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় গ্রহণযোগ্য কোনো মাধ্যমে পাওয়া যায়নি।
সুতরাং ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটককৃত ব্যক্তিকে জামায়াত কর্মী দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




