প্রথা অনুযায়ী উৎসব উপলক্ষে পশ্চিম দেয়ালের চিরকুট সরানো হয়েছে
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, প্রথা অনুযায়ী উৎসব উপলক্ষে পশ্চিম দেয়ালের চিরকুট সরানোর ভিডিওকে ইরানের হামলার ভয় হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।

একটি গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রতিবেদন হিসেবে পোস্ট করা হয়েছে; এতে দেখা যাচ্ছে পাথরের তৈরি একটি বিশাল প্রাচীরের সামনে সাদা ইউনিফর্ম পরা কয়েকজন ব্যক্তি কাজ করছেন। তারা দেয়ালের খাঁজ থেকে ছোট ছোট কাগজের টুকরো সংগ্রহ করে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরছেন। দেয়ালের সামনে বেশ কয়েকটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা ভর্তি অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। শিরোনামে উল্লেখ করা হয়েছে, 'ইরানি হামলার ভয়ে, 'গডকে লেখা' চিঠি সরাচ্ছে ইসরায়েলিরা!' এ ধরনের পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ৯ মার্চ 'Channel 24'-এর ভেরিফাইড পেজ থেকে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটি পোস্ট করে শিরোনামে উল্লেখ করা হয়, 'ইরানি হামলার ভয়ে, 'গডকে লেখা' চিঠি সরাচ্ছে ইসরায়েলিরা! (বানান অপরিবর্তিত)। পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন —
ফ্যাক্ট-চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি সঠিক নয়। মূলত আসন্ন ইহুদি উৎসব উপলক্ষে পশ্চিম দেয়ালের (Western Wall) চিরকুট রাখার স্থান পরিষ্কার করার নিয়মিত কার্যক্রমের ভিডিওকে ইরানের হামলার ভয়ের দাবিতে প্রচার করা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে- এটি উৎসবের প্রস্তুতির অংশ।
রিভার্স ইমেজ সার্চ করে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সের ডিজিটাল কন্টেন্ট মার্কেটপ্লেস 'www.reutersconnect.com'-এ গত ৮ মার্চ ‘Clearing notes to God that were placed in the cracks of the Western Wall, ahead of upcoming Jewish holidays, in Jerusalem's Old City’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি কন্টেন্ট পাওয়া যায়। রয়টার্সের সাইটটিতে চিরকুট রাখার স্থান পরিষ্কার করার ঘটনার একটি স্থিরচিত্রও যুক্ত করা হয়েছে। স্থিরচিত্রের সাথে প্রচারিত ভিডিওটির ঘটনার দৃশ্যপটের (বাম দিকে থাকা একটি চেয়ার ও একটি ধাতব স্ট্যান্ড বা জালের মতো ঝুড়ি) মিল পাওয়া গেছে।
এতে ছবির বিষয়ে উল্লেখ করা হয়, জেরুজালেমের ওল্ড সিটিতে অবস্থিত ইহুদিদের পবিত্রতম প্রার্থনা স্থান পশ্চিম দেয়ালে (Western Wall) নতুন চিরকুট রাখার জায়গা করে দিতে আগের চিরকুটগুলো সরিয়ে নিচ্ছেন কর্মীরা। সামনেই বড় ইহুদি উৎসব, তার আগেই এই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ছবিটি তোলা হয়েছে ২০২৬ সালের ৮ই মার্চ। (অনূদিত ও সংক্ষেপিত)। স্ক্রিনশট দেখুন —
প্রচারিত ভিডিওটিতে বাম দিকে থাকা একটি চেয়ার ও একটি ধাতব স্ট্যান্ড বা জালের মতো ঝুড়িসহ দৃশ্যের স্থিরচিত্র দেখুন —
ভিডিওটিতে 'Channel 24' ভয়েসওভার বা কোনো অনুবাদ যুক্ত করেনি এমনকি দাবিকৃত 'ইরানের হামলার ভয়ে' ইসরায়েলিদের গডকে লেখা চিঠি সরানোর দাবিটির পক্ষে কোনো প্রমাণও উল্লেখ করেনি।
এদিকে ভিডিওটিতে ঘটনাস্থলের একজনের বক্তব্য পাওয়া যায় (১ মিনিট ৯ সেকেন্ড থেকে)। বক্তব্যের অংশটি থেকে প্রযুক্তির সহায়তায় বক্তব্যের ট্রান্সক্রিপ্ট নেওয়ার পরে গুগল ট্রান্সলেটর দিয়ে অনুবাদ করি আমরা।
অনুবাদ থেকে পাওয়া যায়- তিনি হিব্রু ভাষায় বলেছেন, 'প্রতি পাসওভারের আগের সন্ধ্যায়, আমরা চিরকুটগুলো সরিয়ে জলপাই পর্বতের জেনিজাহতে নিয়ে আসি। এই বছর আমরা সময়টা একটু এগিয়ে এনেছি, যাতে বাইরের বড় চত্বরে অবস্থিত পশ্চিম প্রাচীরটি দুর্ভাগ্যবশত উপাসকশূন্য থাকার সুযোগে আমরা কাজটি সর্বোত্তম উপায়ে করতে পারি। অবশ্যই, যারা চিরকুটগুলো রেখেছেন, তাদের সকলের জন্য আমরা প্রার্থনা করি, যেন পরম পবিত্র সত্তা, ধন্য তিনি, তাদের প্রার্থনা শোনেন।'
আরও নিশ্চিত হতে ইসরায়েলের ফ্যাক্ট-চেকার Uria Bar-Meir এর সাথে এ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, 'ভিডিওতে বক্তব্যকারী বলছেন: তিনি সেখানে ব্যাখ্যা করেন যে এটি পাসওভারের আগের রাতে অনুষ্ঠিত একটি বার্ষিক তথা প্রতি বছর করা হয়, এবং এই বছর যুদ্ধের কারণে জায়গাটি খালি থাকায় তারা কাজটি "সর্বোত্তম সম্ভাব্য উপায়ে" করার সুযোগটি নিচ্ছে।'
Uria Bar-Meir আরও জানান, 'মূলত পরিষ্কার করে নতুন চিরকুট রাখার জন্য জায়গা করা হয় '। পাশাপাশি তিনি ২০০৩ সালের এই সংক্রান্ত একটি হিব্রু ভাষার নিবন্ধ শেয়ার করেন।
নিবন্ধটি অনুবাদ করে দেখা যায় এতে উল্লেখ করা হয়েছে- 'বছরে দুবার, পাসওভার এবং রোশ হাশানাহ-তে, পবিত্র স্থান কেন্দ্র (সেন্টার ফর হোলি প্লেসেস) পশ্চিম প্রাচীরের পাথরের ফাঁকে জমে থাকা নোটগুলো সংগ্রহ করে নতুন নোট রাখার জন্য জায়গা করে দেয়। পুরনো নোটগুলো জলপাই পর্বতে (মাউন্ট অফ অলিভস) পুঁতে রাখা হয়।'
অর্থাৎ উৎসবের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই চিরকুটগুলো সরানো হয়েছে।
সুতরাং সামাজিক মাধ্যমে ইরানের হামলার ভয়ে 'গডকে লেখা' চিঠি সরাচ্ছে ইসরায়েলিরা মর্মে যে ভিডিওটি প্রচার করা হয়েছে, তা বিভ্রান্তিকর।




