চোরের ছুরিকাঘাতে নিহত নারীকে ছেলে ছাত্রলীগ করায় মাকে হত্যা বলে প্রচার
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, ছেলে ছাত্রলীগ করার অপরাধে নয়; বরং কক্সবাজারের মহেশখালীতে চোরের ছুরিকাঘাতে শিল্পী রানী সুশীল (৪৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে একটি ফটোকার্ড পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, কক্সবাজারের মহেশখালীতে ছেলে ছাত্রলীগ করায় ঘরে ঢুকে মাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর ‘InfoBangla’ নামক একটি পেজ থেকে একটি ফটোকার্ড পোস্ট করে উল্লেখ করা হয়, “ছেলে ছাত্রলীগ করায় ঘরে ঢুকে মাকে কু'পিয়ে হ'ত্যা।” নিচে পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে কক্সবাজারের মহেশখালীতে ছাত্রলীগ করার অপরাধে তার মা’কে হত্যা করার ঘটনা ঘটেনি। বরং চুরি করতে আসা ব্যক্তির ছুরিকাঘাতে শিল্পী রানী সুশীল (৪৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়।
কি ওয়ার্ড সার্চ করে “‘চোর, চোর’ বলে চিৎকার করতেই ছুরিকাঘাত, গৃহবধূর মৃত্যু” শিরোনামে ’প্রথম আলোর’ ওয়েবসাইটে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কক্সবাজারের মহেশখালীতে ছুরিকাঘাতে শিল্পী রানী সুশীল (৪৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘরে চুরি করতে আসা এক চোর ওই গৃহবধূকে ছুরিকাঘাত করেছেন। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিল্পী রানী সুশীল ওই এলাকার বাসিন্দা রবীন্দ্র লাল সুশীলের স্ত্রী। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যায় শিল্পী রানী ঘরে রান্না করছিলেন। এ সময় অচেনা এক ব্যক্তি চুরি করতে ঘরে ঢোকার চেষ্টা করেন। তাঁকে দেখে শিল্পী রানী ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার শুরু করেন। তখন ওই ব্যক্তি শিল্পীর মুখ চেপে ধরেন। এরপর তাঁকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন আহত শিল্পী রানীকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। স্ক্রিনশট দেখুন--
পাশাপাশি, কি ওয়ার্ড সার্চ করে “মহেশখালীতে গৃহবধূ খুন, এলাকায় আতঙ্ক” শিরোনামে ’আমার দেশ’ পত্রিকার ওয়েবসাইটে আরো একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতের স্বামী রবি সওদাগর জানান, তিনি বাজারে দোকান করেন। তার স্ত্রী শিল্পী শীল বাড়িতে একা ছিলেন। স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতের খবর পেয়ে দ্রুত বাড়িতে গিয়ে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রতিবেদনে নিহতের ভাইপো নিকাশ শর্মা জানান, তার কাকার পরিবারের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ নেই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সংঘবদ্ধ চোর চক্র এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে। স্থানীয় হিন্দু নেতা শান্তি নন্দী জানান, রবি সওদাগরের পরিবার এলাকায় শান্ত ও সামাজিক পরিবার হিসেবে পরিচিত। তাদের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ নেই। রবি ও শিল্পী দম্পতির সন্তানরা পড়াশোনার কারণে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় থাকেন। নিজ বাড়িতে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্ক্রিনশট দেখুন--
আলোচ্য প্রতিবেদনে নিহত শিল্পী শীলের ছেলে বা তার পরিবার ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত- এমন কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পাশাপাশি, কি ওয়ার্ড সার্চ করে ডিজিটাল অনুসন্ধানমূলক সংবাদমাধ্যম ‘দ্যা ডিসেন্ট’ এর “পরিবার বলছে চোরের ছুরিকাঘাতে নিহত: আ.লীগের প্রচার 'ছেলে ছাত্রলীগ করায় মাকে হত্যা'” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। যেখানে বলা হয়, নিহত নারীর ছেলে ছাত্রলীগ করার কারণে তাকে মারা হয়েছে কিনা জানতে হোয়ানক ইউনিয়ন পরিষদের ১,২,৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য ছাবেকুন্নাহার মেরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “এটি রাজনৈতিক কোনো ঘটনা নয়। ওই পরিবারটি খুবই শান্তিপ্রিয়। তারা কোনো রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে জড়িত নয়। তাই ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই।”
অর্থাৎ ছেলে ছাত্রলীগ করার কারণে নয়; বরং নিহত নারী চোরের ছুরিকাঘাতে নিহত হন।
সুতরাং, চোরের ছুরিকাঘাতে নিহত নারীকে ছেলে ছাত্রলীগ করার দায়ে মাকে হত্যা করা হয়েছে দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




