ছবির শিশুটি বাংলাদেশি নয়, সাহায্যের আবেদনটি ভুয়া

বুম বাংলাদেশ দেখেছে, ছবিটি ভারতের এক শিশুর, বাংলাদেশের মোছা শাপলা দাবি করে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের আবেদন প্রতারণাপূর্ণ।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের একাধিক আইডি ও পেজ থেকে একটি অসুস্থ শিশু ও তার অভিভাবকের ছবি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, শিশুটির নাম নাম "মোছাঃ শাপলা", পরিচয় হিসাবে জানানো হয়েছে শিশুটির পিতা "মোঃ সেলিম রহমান একজন মুদি ব্যাবসায়ী ঠিকানাঃ- গ্রাম-গাংনি, ইউনিয়ন - গাংনী , থানা- মোল্লাহাট, জেলা - বাগেরহাট"। ভাইরাল পোস্টে শিশুটি ফুসফুস ছিদ্র দাবি করে তার চিকিৎসার জন্য প্রায় ২ লক্ষ টাকা সাহায্যের আবেদন জানানো হয়। পোস্টটিতে যোগাযোগের জন্য একাধিক মোবাইল নম্বরও জুড়ে দেয়া হয়েছে, বলা হয়েছে শিশুটি বর্তমানে ভর্তি আছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে

গত ২১ নভেম্বর 'Tomal Khan' নামের একটি আইডি থেকে পোস্ট করা ছবিগুলোর ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, "#আসসালামু_আলাইকুম_দেশ_বিদেশের_সকল_মানুষের_পায়ে_হাত_দিয়ে_বলছি_আমার_তিন_মাস_বয়সী_মেয়েকে_বাঁচান

দয়া করে কেউ এড়িয়ে যাবেন না প্লিজ

লাইক কমেন্ট না করে সাহায্য করুন আপনার সাহায্য মাধ্যমে বেঁচে যেতে পারে একজন দরিদ্র পরিবারে ছোট্ট শিশুটি।মাত্র তিন মাস বয়সি শিশু শাপলা। হার্টেরছোট্ট ছিদ্র নিয়ে কতইনা না ব্যথ্যা সহ্য করতে হচ্ছে এই বয়সে। টাকার অভাবে পরিবারে পক্ষে চিকিৎসা করার সম্ভব হচ্ছে না, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী, চিকিৎসা করতে হলে প্রাই দুই লক্ষ টাকা দরকার!! মাত্র ২০০ জন মানুষ যদি ১০০০ টাকা করে আমার মেয়ে শাপলা জন্য দেন তাহলে ২ লক্ষ টাকা হবে যাকাতের টাকা দিতে পারেন

তাই আপনারা আসুন একজন দরিদ্র অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই, আর্থিক সহযোগিতার হাত বাঁড়াই। এবং সহযোগিতা করতে না পারলে ও পোষ্ট শেয়ার করে মানবতা হাত বাঁড়িয়ে দিই। ২০০/৫০০/১০০০/২০০০/৫০০০ যে যা পারেন আপনারা যারা যারা মানবিক সাহায‍্য জন্য টাকা পাঠাবেন। সাহায্য পাঠানোর মাধ্যম

বিকাশ_পার্সোনাল :01820859521

নগদ_পার্সোনাল :01820859521

রকেট_পার্সোনাল : 01820859521-5

শিশুটির বর্তমানে চিকিৎসা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতেছে..

নাম= #মোছাঃ_শাপলা

পিতা=মোঃ সেলিম রহমান।

তার বাবা একজন মুদি ব্যাবসায়ী , ঠিকানাঃ- গ্রাম-গাংনি, ইউনিয়ন - গাংনী , থানা- মোল্লাহাট, জেলা - বাগেরহাট।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনে উল্লেখিত নিয়মে দান করার তাওফিক দান করুন। মানুষের সব দানকে আল্লাহ তাআলা কবুল করুন। আমিন!" ওই পোস্টের স্ক্রিনশট দেখুন-

পোস্টটি দেখুন এখানে

একই দাবিতে ছবিটি ফেসবুকে একাধিক আইডি ও পেজ থেকে পোস্ট করতে দেখা গেছে। স্ক্রিনশট দেখুন--


ফ্যাক্ট চেক

বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, পোস্টের বর্ণনায় করা দাবিটি প্রতারণাপূর্ণ। ভারতীয় এক শিশুর ছবি দিয়ে বাংলাদেশের মোছাঃ শাপলা দাবি করে বিভ্রান্তিকর প্রচার করা হচ্ছে।

রিভার্স ইমেজ সার্চের করলে, তহবিল সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান জিয়েঙ্গে-এর ( www.jiyenge.com) ওয়েবসাইটে "My Baby Battles For His Life And We Need Your Support To Save Him Soon" শিরোনামে একটি প্রতিবেদনে ছবিটি খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, শিশুটি ফুসফুস জটিলতায় ভুগছে যার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। ফলে শিশুটির মা অর্পিতা দাস চিকিৎসার জন্য ফান্ড রাইজার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মানুষের কাছে অর্থ সাহায্য চেয়ে আবেদন জানাচ্ছেন। প্রতিবেদনে শিশুটির চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় আর্থিক সাহায্যের জন্য ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হাওড়া জেলার নারায়ণা সুপারস্পেশ্যালিটি হাসপাতালের চিকিৎসকের স্বাক্ষরিত একটি প্রত্যয়নপত্রও যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। স্ক্রিনশট দেখুন--

প্রতিবেদনটি দেখুন এখানে

পাশাপাশি, আরেকটি নির্ভরযোগ্য ক্রাউডফাইন্ডিং প্লাটফর্ম কিটো-এর (Ketto) অফিশিয়াল টুইটার একাউন্টেও চলতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে শিশুটির জন্য অর্থ সাহায্য চেয়ে পোস্ট করতে দেখা গেছে।

এদিকে, বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে উক্ত পোস্টগুলোতে সহযোগিতা পাঠানোর জন্য দেয়া নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করা হলে সবগুলো নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। শাপলা নামের বাংলাদেশের কোন শিশু সত্যিই রোগাক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি কিনে বা তার আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন কিনা, জানতে বুম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বরত কেউ এ বিষয়ে তথ্য দিতে পারেননি। পরবর্তীতে, উল্লেখযোগ্য কোন তথ্য পেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে। তবে নিশ্চিতভাবেই ছবিটি বাংলাদেশি কোনো শিশুর নয়।

অর্থাৎ ভারতীয় শিশু'র ছবি জুড়ে দিয়ে বাংলাদেশি শিশু দাবি করে সামাজিক মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়াই আর্থিক সহায়তার আবেদন জানানো হচ্ছে, যা প্রতারণাপূর্ণ।

Updated On: 2021-11-24T10:08:31+05:30
Claim Review :   শিশুটির বর্তমানে চিকিৎসা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতেছে..
Claimed By :  Facebook Post
Fact Check :  False
Show Full Article
Next Story