মতিঝিলে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের বলে ভিন্ন ঘটনার ভিডিও প্রচার
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত হওয়ায় আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের সংঘর্ষের ঘটনায় ভিডিওটি ধারণ করা হয়।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে বলা হচ্ছে, মতিঝিলে আওয়ামী লীগের তাণ্ডব চলছে। এরকম কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর 'Taposh Ghosh' নামে একটি ফেসবুক একাউন্ট থেকে ভিডিওটি শেয়ার করে বলা হয়, "মতিঝিল এখন আওয়ামী লীগের তান্ডব চলছে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু"। ফেসবুক পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত হওয়ায় আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আলোচ্য ভিডিওটি ওই সংঘর্ষের সময়ে ধারণ করা হয়।
আলোচ্য ভিডিওটি সম্পর্কে জানতে ভিডিওটি থেকে কি-ফ্রেম কেটে নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে গত ১৪ সেপ্টেম্বর 'জনপথ সংবাদ' নামে একটি ফেসবুক পেজে আলোচ্য ভিডিওটির মত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ওই ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হয়, "ইসলামিয়া ব্যাংকের সামনে রণক্ষেত্র! দুই পক্ষের সংঘর্ষে ছড়াল উত্তেজনা, এলাকায় চাঞ্চল্য! #BDnews #PoliticalNews #InternationalNews #Bangladesh"। ফেসবুক পোস্টটি দেখুন--
আরো সার্চ করে বেসরকারি সম্প্রচার মাধ্যম এনটিভির অনলাইন ভার্সনে গত ১৪ সেপ্টেম্বর "ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের দাবি" শিরোনামে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে যুক্ত ছবির সাথে আলোচ্য ভিডিওর দৃশ্যের সাথে মিল রয়েছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, "ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনসহ স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। একই সঙ্গে গ্রাহকদের কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের দাবি জানান তারা। আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মতিঝিলের দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে এসব দাবি তুলে ধরেন ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’।... এস আলম গ্রুপের মালিকাধীন থাকাকালে ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ পাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছিলেন। একই সময়ে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা সেখানে কর্মসূচি পালন করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে তা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় রূপ নেয়। কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় গ্রাহক ফোরামের অভিযোগ, চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রথমে তাদের কর্মসূচিতে হামলা চালান। সংগঠনটির দাবি, এতে সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।" স্ক্রিনশট দেখুন--
পরবর্তীতে কি-ওয়ার্ড সার্চ করে বেসরকারি সম্প্রচার মাধ্যম ডিবিসি নিউজের ফেসবুক পেজে গত ১৪ সেপ্টেম্বর পোস্ট করা একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা হয়, "ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের সাথে সচেতন গ্রাহক ফোরামের সংঘর্ষ"। ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ব্যাঙ্কের চাকরিচ্যুতদের সঙ্গে সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ফেসবুক পোস্টটি দেখুন--
অর্থাৎ, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত হওয়ায় মতিঝিলে অবস্থিত ব্যাংকের প্রধান অফিসের সামনে আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের সংগঠন সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আলোচ্য ভিডিওটি ওই সংঘর্ষের সময়ে ধারণ করা হয়।
সুতরাং ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গ্রাহকদের ভিতরে সংঘর্ষের ভিডিওকে আওয়ামী লীগের বলে দাবি করে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে যা বিভ্রান্তিকর।




