মা থাকেন বৃদ্ধাশ্রমে, বাড়ির নাম 'মায়ের আশীর্বাদ' ছবিটি এডিট করা

বুম বাংলাদেশ দেখেছে, বাড়িটির মূল ছবিতে 'মায়ের আশীর্বাদ' লেখা নেই এবং ইনসেটের ছবিটি রংপুরের বয়স্কভাতা বঞ্চিত এক অসহায় বৃদ্ধার।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের একাধিক পেজ ও আইডি থেকে একটি ছবি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে, বাড়িটির নাম "মায়ের আশীর্বাদ" পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল মালিকের মা বৃদ্ধাশ্রমে থাকেন।ছবিতে সুইমিং পুল সহ বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ির ছবির সঙ্গে ইনসেটে এক বৃদ্ধার ছবি দেখা যায়। দাবি করা হচ্ছে এই নারীই বাড়ির মালিকের মা। এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে

গত ৮ নভেম্বর 'নীল আকাশের পরী' নামের একটি আইডি থেকে পোস্ট করা গ্রাফিক পোস্টারটিতে লেখা হয়েছে, "বাড়িটির নাম দিয়েছে মায়ের আশীর্বাদ পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল মালিকের মা বৃদ্ধাশ্রমে থাকে।" ওই পোস্টের স্ক্রিনশট দেখুন--

পোস্টটি দেখুন এখানে

ফ্যাক্ট চেক

বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, বাড়ির নামের অংশে লেখা, 'মায়ের আশীর্বাদ' লেখাটি ফটোশপের মাধ্যমে এডিট করা। পাশাপাশি বয়স্ক নারীর ছবিটিও ভিন্ন ঘটনার।

রিভার্স সার্চ করলে, ভাইরাল হওয়া বিলাসবহুল বাড়ির ছবিটি স্টক ছবির জন্য বিখ্যাত সংস্থা Getty Images এর সহ প্রতিষ্ঠান আইস্টকে খুঁজে পাওয়া যায়, যা ২০১২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আপলোড করা হয়েছে। একইভাবে ছবিটি স্টক ছবির আরেক প্রতিষ্ঠান শাটারস্টক-এও দেখা গেছে। উল্লেখ্য কোন ছবিতেই বাড়ির নাম নেই। স্ক্রিনশট দেখুন--

দেখুন এই লিংকে

ভাইরাল ছবি এবং আইস্টকে পাওয়া ছবিটি পাশাপাশি তুলনামূলকভাবে দেখুন--

ভাইরাল ছবি এবং আইস্টকে পাওয়া ছবিটির পাশাপাশি স্ক্রিনশট দেখুন

ইনসেটে দেখতে পাওয়া নারীর ছবিটি আলাদাভাবে রিভার্স সার্চ করে, এনপিনিউজ৭১ নামের একটি স্থানীয় অনলাইন পোর্টালে "পীরগন্ঞ্জে এক অসহায় বয়স্ক মহিলার ভাতার টাকা আত্নসাৎ এর অভিযোগ" শিরোনামে ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ প্রকাশিত খবরে খুঁজে পাওয়া গেছে। উক্ত খবরে বলা হয়- "রংপুরের পীরগন্ঞ্জ উপজেলার ৯নং ইউনিয়ন ও ৮নংপৌর ওয়ার্ডের ওসমান পুর মৌজার মৃত্যু কপিল উদ্দীনের বিধবা, অসহায় বয়স্ক ভাতা ভোগী মোছাঃ মতিজান বেওয়ার বয়স্ক ভাতার টাকা উত্তলোন করে আত্নসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া যায়।" খবরের স্ক্রিনশট দেখুন--

খবরটি পড়ুন এখানে

অর্থাৎ স্টক ছবির ওয়েবসাইটে থাকা সুইমিং পুল সহ বিলাসবহুল বাড়িটির ছবি এডিট করে অপ্রাসঙ্গিকভাবে রংপুরের এক অসহায় বিধবার ছবি জুড়ে দিয়ে বানোয়াট দাবিতে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে, যা বিভ্রান্তিকর।

Updated On: 2021-11-21T09:56:16+05:30
Claim :   বাড়িটির নাম দিয়েছে মায়ের আশীর্বাদ পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল মালিকের মা বৃদ্ধাশ্রমে থাকে।
Claimed By :  Facebook Post
Fact Check :  Misleading
Show Full Article
Next Story
Our website is made possible by displaying online advertisements to our visitors.
Please consider supporting us by disabling your ad blocker. Please reload after ad blocker is disabled.