এটি যুদ্ধে যাওয়ার আগে ইউক্রেনের সেনার মেয়েকে বিদায় দেয়ার ভিডিও নয়

ভিডিওটি মূলত ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাকামী অঞ্চল দোনেৎস্ক থেকে পরিবারকে রাশিয়ার নিরাপত্তায় সরিয়ে নেয়ার সময় ধারণ করা।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের একাধিক আইডি ও পেজ থেকে একটি আবেগঘন ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে অশ্রুসজল চোখে তার মেয়েকে বিদায় জানাতে দেখা যায়। দাবি করা হচ্ছে, ভিডিও দেখতে পাওয়া লোকটি একজন ইউক্রেনীয়, যে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয়ার আগে মেয়েকে বিদায় জানাচ্ছেন। এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে

ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমের পাশাপাশি মূলধারার সংবাদমাধ্যম দৈনিক যুগান্তর অনলাইনেও প্রকাশ করা হয়েছে একই দাবিতে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দৈনিক যুগান্তর অনলাইনে "যুদ্ধে যাচ্ছেন বাবা, কেঁদে বিদায় জানাচ্ছেন মেয়ে (ভিডিও)" প্রকাশিত খবরে লেখা হয়েছে, " রাশিয়ার হামলার পর ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে সেনার গতিবিধি জোরদার হয়েছে। নাগরিকরা সেনাবাহিনীতে যোগ দিচ্ছেন। রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামার আগে লোকজনকে তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এবং বিদায় জানাতে দেখা যায়। এমনই একটি ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক শিশুকন্যা তার বাবাকে বিদায় জানাতে এসেছে। বাবা-মেয়ে দুজনের চোখেই পানি। বাবা-মেয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে রয়েছে। চোখে ঝরে পড়ল অশ্রুধারা। বাবা বারবার তার মেয়েকে আদর করছেন। বলার অপেক্ষা রাখে না, ভিডিওটি খুবই আবেগবিহ্বল। আর সেই ভিডিও মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। আর এই ভিডিও দেখে অনেকেই চোখের পানি চেপে রাখতে পারছেন না।" দেখুন--

খবরটি দেখুন এখানে

ফ্যাক্ট চেক:

কিন্তু বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি বিভ্রান্তিকর। মূলত ঐ ব্যক্তি যুদ্ধ-কবলিত ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের রুশভাষী বিচ্ছিন্নতাকামী অঞ্চল দোনেৎস্ক থেকে রাশিয়ার নিরাপত্তায় তার পরিবারকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময়ে ভিডিওটি ধারণ করা হয়।

ভিডিওটির কী ফ্রেম নিয়ে সার্চ করার পর, রুশ সমার্থক এক ব্যক্তির টুইটারে ২১ ফেব্রুয়ারি করা টুইটে আলোচ্য ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়, রুশ ভাষায় ক্যাপশনে লেখা রয়েছে " Evacuation from Gorlovka. Heartbreaking footage..." ( স্বয়ংক্রিয় অনুবাদ)।

প্রসঙ্গত, গোরলোভকা নামে পরিচিত এই নগরীটি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের রুশভাষী দোনেৎস্ক অঞ্চলে অবস্থিত, ২০১৪ সালের বিক্ষোভের পর থেকেই এটি রুশ-নিয়ন্ত্রিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি দোনেৎস্ক ও আরেকটি অঞ্চল লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন

টুইটটির সূত্রধরে সার্চ করে, রুশ সোশাল মিডিয়া ওয়েবসাইট ভিকে-তে একই ভিডিও দেখতে খুঁজে পাওয়া যায়, এটিও ২১ ফেব্রুয়ারি পোস্ট করা হয়েছে। রুশ ভাষায় লেখা যার বিবরণ স্বয়ংক্রিয় অনুবাদ করলে দেখা যায় লেখা হয়েছে, "চোখের জলে বিদায় জানানোর এক মর্মস্পর্শী মুহূর্ত, যখন গৃহকর্তা তাঁর স্ত্রী ও কন্যাকে নিরাপত্তার খোঁজে রাশিয়ায় পাঠিয়ে দিচ্ছেন। ইউক্রেনের সরকার দনবাস-এর অসামরিক নাগরিকদের উপর যে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে, তার পরিণামে দনবাস প্রজাতন্ত্রের সাধারণ মানুষদের দুর্গতির শেষ নেই। প্রায় প্রতিদিনই তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে পরিবারের প্রিয়জনদের বিদায় জানাতে হচ্ছে।............" স্ক্রিনশট দেখুন--

পোস্টটি দেখুন এখানে

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযান শুরু হওয়ার পরপরই রুশ-পন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক থেকে তাদের পরিবারের লোকেদের রাশিয়ায় পাঠিয়ে দিতে শুরু করে।

এর আগে বুম লাইভ বাংলা ও স্প্যানিশ ফ্যাক্ট চেকিং সাইট মালদিতা এই ভিডিওটির তথ্য-যাচাই করেছে।

সুতরাং, ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাকামী রুশভাষী দোনেৎস্ক অঞ্চল থেকে এক ব্যক্তির স্ত্রী ও কন্যাকে নিরাপত্তার খোঁজে রাশিয়ায় পাঠানোর ভিডিওকে বিভ্রান্তিকর দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে সামাজিক মাধ্যম ও মূলধারার গণমাধ্যমে।

Claim :   যুদ্ধে যাচ্ছেন বাবা, কেঁদে বিদায় জানাচ্ছেন মেয়ে
Claimed By :  Facebook Post
Fact Check :  Misleading
Show Full Article
Next Story
Our website is made possible by displaying online advertisements to our visitors.
Please consider supporting us by disabling your ad blocker. Please reload after ad blocker is disabled.