ট্রুডো নতুন করে প্রধানমন্ত্রী হননি, আস্থাভোটে জিতেছেন

সংসদে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা সংক্রান্ত অনাস্থা ভোট থেকে উতরে যাওয়াকে নির্বাচিত হওয়া বলে দাবী করা হচ্ছে।

কিছু অনলাইন পোর্টালে ও সামাজিক মাধ্যমে কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আবারো জাস্টিন ট্রুডো নির্বাচিত হয়েছেন মর্মে একটি খবর ছড়ানো হচ্ছে। বিডি২৪রিপোর্ট নামে একটি পোর্টালে 'আবারো কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো' শিরোনামের খবর অনুযায়ী, ''কানাডায় ২১ অক্টোবর ছিল সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনের বর্ষপূর্তির দিন। আর এ দিনই সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চার দেশ কানাডার সংসদে দলগুলোর সংসদীয় শক্তি প্রদর্শনের একটি অধ্যায় রচিত হল।

কেন্দ্রে সংখ্যালঘু লিবারেল পার্টির সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির অনাস্থা প্রস্তাব নিম্নপরিষদ হাউস অব কমন্সে ভোটাভুটিতে প্রত্যাখ্যাত হল। ক্ষমতায় টিকে গেলেন প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো এবং তার দল।
স্থানীয় গণমাধ্যম সিটিভি নিউজ জানায়, সরকারের প্রতি অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়ে ১৪৬টি, বিপক্ষে ১৮০টি।
অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি ও সংসদে তৃতীয় বৃহত্তম দল ব্লক ক্যুইবেকয়ার সংসদ সদস্যরা।
অন্যদিকে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টি, এনডিপি, গ্রিন পার্টি ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা।''
দেখুন এখানে। এরকম আরেকটি খবর দেখুন এখানে। আর্কাইভ করা আছে এখানেএখানে
আর্কাইভ দেখুন এখানে
ফ্যাক্ট চেক:
অনুসন্ধানে দেখা যায়, এরকম হুবহু ভাষ্যের খবরটি মূলত মূলধারার সংবাদ মাধ্যম যুগান্তরের অনলাইনে '
'কানাডায় আস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর জয়
'' শিরোনামে গত ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত হয়।

মূলত করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা ও এ সংক্রান্ত ব্যয় নিয়ে কানাডিয়ান সংসদের হাউস অব কমন্সে গত বুধবার ক্ষমতায় আসার ঠিক এক বছরের মাথায় জাস্টিন ট্রুডোর ক্ষমতাসীন লিবারাল পার্টি সরকারের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবী নিয়ে একটি অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। কিন্তু সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকা সত্ত্বেও অন্যতম বিরোধী দল এনডিপির সমর্থন নিয়ে ১৮০-১৪৬ ভোটে এই অনাস্থা প্রস্তাব উতরে যান জাস্টিন ট্রুডো। এর ফলে বেঁচে যান মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঝামেলা থকেও। বিবিসি ও ডয়চে ভেলের খবর দেখুন
এখানে
এখানে

আস্থাভোটে জয়ী না হওয়ার অর্থ এই নয় যে, সাথে সাথেই ট্রুডোকে প্রধানমন্ত্রীত্ব থেকে ইস্তফা দিতে হতো। বরং ভোটে তিনি জয়ী হতে না পারলে তাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচন আহ্বান করতে হতো। সেই নির্বাচন তার দলও অংশগ্রহণের সুযোগ পেত এবং নতুন করে জয়ী হয়ে এলে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্ব নেয়ার সুযোগ ছিলো। কিন্তু আস্থাভোটে জয়ী হওয়ার মাধ্যমে 'নতুন করে কানাডার প্রধানমন্ত্রী' হননি ট্রুডো। বরং আগে থেকে তার যে প্রধানমন্ত্রীত্ব বহাল আছে সেটি আস্থাভোটে হেরে গেলেও থাকতো; মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত।

ফলে একজন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কর্তৃত সংসদের আস্থাভোটে বিজয়ী হওয়ার খবরকে 'আবারও প্রধানমন্ত্রী হওয়া' হিসেবে উপস্থাপন বিভ্রান্তিকর।

Claim Review :   আবারো কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো
Claimed By :  Website, Facebook Posts
Fact Check :  Misleading
Show Full Article
Next Story