শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকারের এই ভিডিওটি সাম্প্রতিক নয়
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকারের এই ভিডিওটি ২০০৭ সালে লন্ডনে ধারণ করা হয়।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের একাধিক আইডি থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও প্রচার করে বলা হচ্ছে, ভারতে দিল্লিতে প্রকাশ্যে এসেছেন শেখ হাসিনা এবং এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, তিনি দ্রুতই দেশে ফিরবেন। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ৪ জুলাই 'মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা' নামে একটি ফেসবুক একাউন্ট থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে বলা হয়, "আলহামদুলিল্লাহ 🌺🤲 বিগ ব্রেকিং ৫ তারিখ দেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা, ভারতের দিল্লিতে প্রকাশ্যে আসলেন। এখন আমাদের উচিত যার যার জায়গা থেকে প্রস্তুত হওয়া সবাই মাঠে নেমে পড়েন আর ঘরে থাকার সময় নেই ইনশাআল্লাহ রাজপথ আমাদের দখলে থাকবে 🛶✊"। ভিডিওটিতে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, "যারা পার্টি খুলে পার্টি অরগানাইজ করতে পারে না আর যারা ইলেকশন করে জামানত ধরে রাখতে পারে না তাঁরা ঠিক করবে আওয়ামী লীগ কী করবে?"। ফেসবুক পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--

ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। আলোচ্য ভিডিওটি শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক কোনো সাক্ষাৎকারের নয় বরং ২০০৭ সালের মে মাসে আলোচ্য ভিডিওটি ধারণ করা হয়।
শেখ হাসিনার আলোচ্য সাক্ষাৎকারটির ব্যাপারে জানতে ভিডিওটি থেকে কি-ফ্রেম কেটে নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে "Immigrant channel" নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলে ২০০৭ সালের ১৬ মে "Sheikh Hasina on Professor Yunus" শিরোনামে আপলোড করা একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওটির ৩৩ সেকেন্ডে আলোচ্য ভিডিওটির মত দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। ভিডিওটিতে বলা হয়, ২০০৭ সালের পহেলা মে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সে ওই বক্তব্য দেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনাকে বলতে দেখা যায়, "ভিডিওটিতে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, "যারা পার্টি খুলে পার্টি অরগানাইজ করতে পারে না আর যারা ইলেকশন করে জামানত ধরে রাখতে পারে না তাঁরা ঠিক করবে আওয়ামী লীগ কী করবে?""। ইউটিউব ভিডিওটি দেখুন--
আরো রিভার্স ইমেজ সার্চ করে 'Tanvir Ahmed' নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলেও ২০০৭ সালের ১৭ জুলাই 'একজন কাউন্সিলরও যদি না চায়, পদত্যাগ করবো- শেখ হাসিনা।' শিরোনামে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওটির ডেস্ক্রিপশনে বলা হয়, "লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিক্সে দেওয়া বক্তৃতা শেষে শেখ হাসিনার একান্ত সাক্ষাতকারে শেখ হাসিনা চ্যানেল এস কে বলেন, একজন কাউন্সিলরও যদি না চায় তাহলে দলীয় সভানেত্রী পদে থাকবেন না তিনি।" ইউটিউব ভিডিওটি দেখুন--
অর্থাৎ আলোচ্য ভিডিওটি সাম্প্রতিক নয়। ২০০৭ সালে লন্ডনে থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগ সভনেত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও থেকে কেটে আলোচ্য ভিডিওটি নেওয়া হয়েছে।
সুতরাং শেখ হাসিনার ২০০৭ সালে লন্ডনে থাকা অবস্থায় দেওয়া সাক্ষাৎকারের ভিডিও সাম্প্রতিক বলে দাবি করে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে যা বিভ্রান্তিকর।




