ভারতীয় সংবাদ উপস্থাপকের এই ভিডিওটি বাস্তব নয়
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, ভারতীয় সংবাদ উপস্থাপকের ইরান যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের সাফল্যের বর্ণনা দিয়ে চিৎকার করে অস্বাভাবিক আচরণের এই ভিডিওটি এআই তৈরি।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে বলা হচ্ছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান বনাম আমেরিকা যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ায় ভারতীয় এক টিভি উপস্থাপক অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এরকম কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ৮ এপ্রিল 'সুন্নি আকিদা' নামে একটি ফেসবুক পেজে এমন একটি ভিডিও শেয়ার করে বলা হয়, “পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ই*রান-আমে*রিকার মধ্যে যু*দ্ধ বিরতি চুক্তি হওয়ায় ভারতীয় এক টিভি উপস্থাপকের প্রতিক্রিয়া বিশ্ব বাজারে ভাইরাল হয়েছে।” ফেসবুক পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি সঠিক নয়। আলোচ্য ভিডিওটি কোনো বাস্তব ঘটনার নয়। ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে।
আলোচ্য ভিডিওটি থেকে কী-ফ্রেম সার্চ করে ভিডিওটি সম্পর্কে কোনো উল্লেখযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে ভিডিওটিতে কিছু অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করা যায়।
ভিডিওটিতে AI-নির্মিত কনটেন্টে থাকা সাধারণ কিছু ত্রুটি বিদ্যমান থাকতে দেখা যায়। যেমন, এআই নির্মিত কনটেন্টের লেখা অস্পষ্ট থাকে এবং ভাঙা ভাঙা ফন্টে লেখা হয়ে থাকে। আলোচ্য ভিডিওটিতেও নিচের দিকে বিকৃতভাবে অস্পষ্ট ফন্টে চ্যানেলের নাম লেখা থাকতে দেখা যায় যেটি আসলে কোনো চ্যানেলের নামই নয়। বিশেষ করে ভিডিওটির চ্যানেলের নামের ইংরেজিতে লেখা অংশটির অক্ষরগুলো অস্পষ্ট এবং বিকৃত। উপস্থাপকের পিছনের স্ক্রিনে দুর্বোধ্য কিছু ইংরেজি শব্দ লেখা উঠতে দেখা যায় যার কোনো অর্থ খুঁজে পাওয়া যায় না। এছাড়াও, চ্যানেলের টিকারে প্রথমে সঠিক বানানে এবং পরে ভুল বানানে Breakin News লেখা থাকতে দেখা যায়।
ভিডিওটির ৯ সেকেন্ডের মাথায় উপস্থাপক ডেস্কে হাত দিয়ে আঘাত করেন, তখন শূন্য থেকে একটি ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস এসে পড়ে এবং নিচে পড়ে গিয়ে ধাতব বস্তুর মত তীব্র শব্দ করে।
কয়েকটি ফ্রেমে উপস্থাপকের আঙুল কাগজের ওপর থাকার বদলে সেটির ভেতর দিয়ে চলে যেতে দেখা যায়। হাত নড়াচড়ার সময় কাগজটি আকারে ও আয়তনে বারংবার পরিবর্তন আসতে যায়।
আবার, উপস্থাপক চেয়ার ধরে ছুড়ে মারার পরপরই সেটিকে কাপড়ের মত একটি বস্তু হয়ে যেতে দেখা যায়।
পরবর্তীতে, এআই-ডিপফেক কন্টেন্ট শনাক্তকারী টুল "DEEPFAKE-O-METER" টুল ব্যবহার করে আলোচ্য ভিডিওটিকে যাচাই করলে টুলটি আলোচ্য ভিডিওটিকে তার একাধিক মানদণ্ডে ভিডিওটি এআইয়ের সাহায্যে তৈরির সম্ভাব্যতা রয়েছে বলে ফলাফল দিয়েছে। তার মধ্যে তিনটি মানদণ্ডে ভিডিওটির এআই নির্মিত হওয়ার সম্ভাব্যতা গড়ে ৯২ শতাংশ বলে ফলাফলে উল্লেখ করেছে। স্ক্রিনশট দেখুন--
অর্থাৎ আলোচ্য পোস্টের দাবিটি ভিত্তিহীন। ভারতীয় সাংবাদিকের অস্বাভাবিক উপস্থাপনার বলে ছড়ানোর ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভিডিও শেয়ার করে ভিডিওটি ভারতীয় সাংবাদিকের বলে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




