পূজা বন্ধের দাবিতে মিছিলের এই ভিডিওটি পুরোনো
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, ২০২৪ সালে উত্তরায় সেক্টরের খেলার মাঠে পুজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা হলে সেখানে ঈদের নামাজ পড়া হয় এমন দাবি করে পুজা বাতিলের দাবিতে মিছিল করে জনতা।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের হিন্দুদেরকে পূজা না করার জন্য প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এরকম কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর 'Himadri Himu' নামে একটি ফেসবুক একাউন্ট থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে বলা হয়, "বাংলাদেশের হিন্দুদের - - - #পূজা না করার জন্য প্রকাশ্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এবার আপনারা কিছু বলুন"। ওই ফেসবুক পশোটটিতে একটি মিছিল এগিয়ে যেতে দেখা যায় যেখানে মিছিলকারীদেরকে "ঈদগাহের মাঠে পূজা হতে দেবো না" বলে স্লোগান দিতে দেখা যায়। স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। আলোচ্য ভিডিওটি সাম্প্রতিক নয়। ২০২৪ সালে উত্তরায় সেক্টরের খেলার মাঠে পুজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা হলে সেখানে ঈদের নামাজ পড়া হয় এমন দাবি করে পুজা বাতিলের দাবিতে মিছিল করেন মুসলিমরা।
আলোচ্য ভিডিওটি সম্পর্কে জানতে ভিডিওটি থেকে কি-ফ্রেম কেটে নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর 'INSIGHT UK' নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট করা আলোচ্য ভিডিওটির মত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ওই ফেসবুক পোস্টটিতে বলা হয়, "𝐀𝐥𝐚𝐫𝐦𝐢𝐧𝐠 𝐬𝐢𝐭𝐮𝐚𝐭𝐢𝐨𝐧 𝐢𝐧 𝐁𝐚𝐧𝐠𝐥𝐚𝐝𝐞𝐬𝐡 𝐰𝐢𝐭𝐡 𝐭𝐡𝐞 𝐈𝐬𝐥𝐚𝐦𝐢𝐬𝐭𝐬 𝐝𝐞𝐦𝐨𝐧𝐬𝐭𝐫𝐚𝐭𝐢𝐧𝐠 𝐢𝐧 𝐃𝐡𝐚𝐤𝐚 𝐚𝐠𝐚𝐢𝐧𝐬𝐭 𝐃𝐮𝐫𝐠𝐚 𝐏𝐮𝐣𝐚 𝐜𝐞𝐥𝐞𝐛𝐫𝐚𝐭𝐢𝐨𝐧𝐬:
🌐 The streets of Dhaka have become a stage for a contentious debate over religious practice, as Mullahs rally against the traditional Durga Puja festival in Uttara.
For years, the Hindu community has celebrated this festival at a specific field in Uttara, a practice now being challenged by demonstrations demanding its cessation on grounds that it allegedly defiles a space where Namaz is performed.
🗣️ Voices from the community highlight a deep concern for religious tolerance and the right to practice one's faith openly. "This is not just about a festival; it's about our right to exist and celebrate our culture without fear," shares a local Hindu resident.
🔍 The situation raises alarming bells over religious coexistence in Bangladesh, where minorities have been historically facing challenges. The demand to stop Durga Puja in this location has sparked outage & discussion on secularism, freedom of religion and allowing Hindus to celebrate their festival freely without fear.
🌟Why is British & world media not highlighting this anti-Hindu hate from Bangladeshi Islamists against Hindus and Hindu festivals? (বাংলাদেশে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি: ঢাকায় দুর্গাপূজা উদযাপনের বিরুদ্ধে ইসলামপন্থীদের বিক্ষোভ:
🌐 ঢাকার রাজপথ এখন ধর্মীয় রীতিনীতি নিয়ে এক বিতর্কিত পরিস্থিতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে; উত্তরার একটি নির্দিষ্ট মাঠে ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপূজা আয়োজনের বিরুদ্ধে মোল্লারা সেখানে বিক্ষোভ করছেন।
বহু বছর ধরে হিন্দু সম্প্রদায় উত্তরার ওই মাঠে এই উৎসব পালন করে আসছে। কিন্তু বর্তমানে এই প্রথাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিক্ষোভ করা হচ্ছে এবং পূজা বন্ধের দাবি তোলা হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের যুক্তি হলো, যে স্থানে নামাজ পড়া হয়, সেখানে পূজা আয়োজন করলে সেই স্থানটি অপবিত্র হয়ে পড়ে।
🗣️ স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং নিজেদের ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের অধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। স্থানীয় এক হিন্দু বাসিন্দা বলেন, "এটি কেবল একটি উৎসবের বিষয় নয়; এটি আমাদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই নিজেদের সংস্কৃতি উদযাপনের অধিকারের প্রশ্ন।"
🔍 এই ঘটনা বাংলাদেশে ধর্মীয় সহাবস্থানের ক্ষেত্রে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, যেখানে সংখ্যালঘুরা ঐতিহাসিকভাবেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে আসছেন। নির্দিষ্ট স্থানে দুর্গাপূজা বন্ধের এই দাবি ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে; পাশাপাশি হিন্দুদের ভয়ভীতিহীন পরিবেশে উৎসব পালনের অধিকার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
🌟 ব্রিটিশ ও বিশ্ব গণমাধ্যম কেন বাংলাদেশি ইসলামপন্থীদের পক্ষ থেকে হিন্দু ও হিন্দু উৎসবের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকাণ্ডকে তুলে ধরছে না? - অনুদিত)"। ফেসবুক পোস্টটি দেখুন--
আরো সার্চ করে ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর 'uttaranews24.com' নামে একটি সংবাদভিত্তিক ফেসবুক পেজে ভিন্ন দিক থেকে ধারণ করা ওই একই মিছিলের আরেকটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ওই পোস্টের ক্যাপশনে লেখা থাকতে দেখা যায়, "উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টর ঈদের জামাতের মাঠে ‘পূজা আয়োজন’ না করার দাবীতে এলাকাবাসীর মিছিল ও সমাবেশ....(ভিডিও)"। এছাড়াও, ভিডিওটির উপরে লেখা থাকতে দেখা যায়, "ঈদ জামাতের মাঠে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজার আয়োজন বন্ধে এলাকাবাসীর মিছিল। এলাকাবাসীর দাবী, উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরে সরকারের বরাদ্দ দেয়া স্থানেই হোক পূজার আয়োজন।" ফেসবুক পোস্টটি দেখুন--
পরবর্তীতে কি-ওয়ার্ড সার্চ করে দৈনিক পত্রিকা কালবেলার অননলাইন ভার্সনে ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর "উত্তরায় মুগ্ধ মঞ্চে দুর্গাপূজার আয়োজন" শিরোনামে প্রচারিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, "মহানগর সার্বজনীন পশ্চিম পূজা কমিটি পশ্চিম থানা শাখার উদ্যোগে এ বছর রাজধানীর উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের মুগ্ধ মঞ্চ চত্বরে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয়দের আপত্তির মুখে ১১ নম্বর মাঠের পরিবর্তে আট বছর পর নতুন স্থানে এই সংগঠনের ব্যানারে পূজার আয়োজন করা হল।
কমিটির সদস্যরা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও ১১ নম্বর মাঠে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। এতে আপত্তি জানান স্থানীয়রা। এটি ঈদগাহ মাঠ বলে অন্য কোনো স্থানে পূজা আয়োজনের পরামর্শ দেন তারা। এর ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার পূজা কমিটি, স্থানীয় লোকজন, সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে উত্তরায় সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে স্থান পরিবর্তন করে মুগ্ধ মঞ্চে মণ্ডপ তৈরির সিদ্ধান্ত হয়।
সার্বজনীন পূজা কমিটি পশ্চিম থানা শাখার সাবেক সভাপতি হরিপদ রায় কালবেলাকে জানান, সর্বসম্মতিক্রমে পূজার স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন আয়োজনের প্রস্তুতি হিসেবে গতকাল বুধবার রাতে কমিটির সদস্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি জানান, ১১ নম্বর মাঠে ইতোমধ্যে আটবার দুর্গাপূজা হয়েছে। এ ছাড়া উত্তরা সার্বজনীন কমিটির উদ্যোগে পৃথক দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।"। স্ক্রিনশট দেখুন--
অর্থাৎ, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। আলোচ্য ভিডিওটি সাম্প্রতিক নয় বরং ২০২৪ সালে উত্তরায় সেক্টরের খেলার মাঠে পুজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা হলে সেখানে ঈদের নামাজ পড়া হয় এমন দাবি করে পুজা বাতিলের দাবিতে মিছিল করেন মুসলিমরা। ওই মিছিল চলাকালে আলোচ্য ভিডিওটি ধারণ করা হয়।
সুতরাং ২০২৪ সালে পূজার স্থান বদলের দাবিতে করা মিছিলের ভিডিওকে সাম্প্রতিক বলে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে যা বিভ্রান্তিকর।




