ডাকসু নেত্রী রাফিয়ার হাতে লাল পাসপোর্টের এই ছবিটি এআই জেনারেটেড
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, ছবিটি এআই জেনারেটেড। ছবিটি গুগল এআই দিয়ে তৈরি বলে গুগলের SynthID শনাক্তকরণ টুল নিশ্চিত করেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে একটি ছবি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, ডাকসুর সদস্য উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়া লাল পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছে। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর ‘Mehedi Hasan’ নামক একটি পেজ থেকে ছবিটি পোস্ট করে উল্লেখ করা হয়, “রাফিয়ার হাতে লাল পাসপোর্ট, সে এদেশের ভি আই পি কেউ নাকি।” নিচে পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, ছবিটি বাস্তব নয়। অর্থাৎ এটি ডাকসু সদস্য উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়ার হাতে লাল পাসপোর্টে নয় বরং ভিন্ন ছবি থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।
আলোচ্য ছবিটি নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ‘৩৬ জুলাই’ নামক একটি ফেসবুক পেইজে একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। যেই ভিডিওটির দৃশ্যে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবির মিল পাওয়া যায়। ভিডিওটিতে রাফিয়ার হাতে লাল পাসপোর্টের বদলে কেবল বই/ডায়েরি সদৃশ কিছু দেখা যায়। এছাড়া, ছবিতে থাকা ডাকসুর নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমার হিজাবের রঙে কিছু পার্থক্য দেখা যায়।
পরবর্তীতে, গুগল এআই শনাক্তকরণ প্রযুক্তি SynthID ব্যবহার করে এই ছবিটির বড় অংশ বা সম্পূর্ণটি এআই দিয়ে তৈরি বা এডিট করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ছবিটির ফলাফলের স্ক্রিনশট দেখুন--
এখানে নীল চিহ্নিত অংশের অর্থ হলো এই জায়গাতে এআই এর লুকোনো ওয়াটারমার্ক পাওয়া গেছে (Detected)। এছাড়াও, ধূসর চিহ্নিত অংশের জায়গাতে টুলটি সরাসরি ওয়াটারমার্ক পায়নি তবে সম্ভাবনা রয়েছে (Unsure) এবং কমলা চিহ্নিত অংশের অর্থ হলো এই জায়গাতে ওয়াটারমার্ক পাওয়া যায়নি (Not detected)। তবে কোনো ছবির কোনো একটি অংশে এই লুকোনো ওয়াটারমার্ক পাওয়ার অর্থ হলো ছবিটি এআই দ্বারা তৈরি অথবা সম্পাদিত। যে যে অংশগুলোতে ধূসর ও কমলা দেখা যাচ্ছে সেই অংশগুলোর ওয়াটারমার্ক সাধারণত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে কিংবা সম্পাদনার কারণে মুছে যেতে পারে ফলে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অর্থাৎ আলোচ্য ছবিটি বাস্তব নয় বরং এটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ছবিকে ডাকসু নেত্রী রাফিয়ার হাতে লাল পাসপোর্টের বাস্তব ছবি দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




