আমেরিকার ফাইটার জেট ধ্বংস হওয়ার দাবিতে প্রচারিত এই ছবিটি এআই তৈরি
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, আলোচ্য ছবিটি বাস্তব দৃশ্যের নয় বরং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের একটি ছবি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, ইরানের মিসাইলের আঘাতে আমেরিকার ফাইটার জেট ধ্বংস হয়েছে। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
গত ৩ মার্চ ‘Habib Rahman’ নামক একটি আইডি থেকে ছবিটি পোস্ট করে উল্লেখ করা হয়, “#আমেরিকান #ফাইটার #জেট #সম্পূর্ণ #ধ্বংস করে মাটিতে ফেলেছে ইরানি মিসাইল। সম্মুখ যুদ্ধে ইরানি বাহিনীর সামনে আমেরিকান বাহিনী দাঁড়াতেই পারছে না।” নিচে পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, ছবিটি বাস্তব নয়। অর্থাৎ ছবিটি ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ফাইটার জেট বিধ্বস্তের বাস্তব দৃশ্যের নয় বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।
আলোচ্য ছবিটি নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে গ্রহণযোগ্য কোনো মাধ্যমে দাবি অনুযায়ী ছবিটি বাস্তব হওয়ার বিষয়ে কিংবা ছবির বিষয়েও উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ছবিটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ডানদিকে থাকা সেনার হাতের আঙুল এবং অঙ্গভঙ্গি খেয়াল করলে দেখা যায় তা কিছুটা অস্পষ্ট এবং শারীরস্থানিকভাবে সঠিক নয়। একেক জনের ইউনিফর্মের রঙ বা টেক্সচারে সূক্ষ্ম পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। ছবিতে আলোর উৎস এবং সেই অনুযায়ী মাটিতে পড়া ছায়ার মধ্যে যথেষ্ট অসামঞ্জস্য রয়েছে। একেক বস্তুর ছায়া একেক দিকে বা ভিন্ন গভীরতায় মনে হচ্ছে। পায়ের কাছে মাটির যে টেক্সচার দেখা যাচ্ছে, তা অনেক জায়গায় ঝাপসা এবং কৃত্রিম মনে হয়।
পরবর্তীতে, এআই ছবি শনাক্তের টুল 'Image Whisperer' ব্যবহার করে ছবিগুলো যাচাই করা হয়। টুলটি ছবিটিকে সম্ভাব্য এআই দ্বারা তৈরি ছবি হিসেবে ফলাফল প্রদান করেছে। ছবিটির ফলাফলের স্ক্রিনশট দেখুন--
এছাড়া এআই ছবি শনাক্তের আরেক টুল 'DeepFake-o-meter' ব্যবহার করেও ছবিটি যাচাই করা হয়। এই টুলটিও ছবিটিকে সম্ভাব্য এআই দ্বারা তৈরি ছবি হিসেবে ফলাফল প্রদান করেছে। ছবিটির ফলাফলের স্ক্রিনশট দেখুন--
অর্থাৎ আলোচ্য ছবিটি বাস্তব নয় বরং এটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ছবিকে ইরানের মিসাইলের আঘাতে আমেরিকার ফাইটার জেট ধ্বংস দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




