এগুলো মেক্সিকোর ড্রাগ কার্টেলের ত্রাণ বিতরণের ছবি

মেক্সিকোর মাদক ব্যবসায়ী গ্যাংগের সদস্যদের দেয়া ত্রাণের প্যাকেটে লাদেনের ছবি ভুল ক্যাপশন যুক্ত করে ছড়িয়েছে ফেসবুকে

"গতকাল আমেরিকার মেক্সিকোতে দেখা গিয়েছে ত্রাণ বিতরণের বেগে "বিন লা-দেনের" ছবি"- এমন দাবি করে ফেসবুকে কিছু ছবি অনেকে পোস্ট ও শেয়ার করছেন।

এরকম একটি পোস্টের স্ক্রিনশট দেখুন--



পোস্টটির টেক্সট হুবহু এখানে তুলে ধরা হলো--

"প্রতিদ্বন্দ্বী নেতাকে কখন মানুষ ভালোবাসা জানেন? যখন স্বদলীয় নেতা নিজের জনগণকে বাঁচাতে ব্যর্থতার পরিচয় দেয় আর তাদের ধ্বংসের মুখে ফেলে দেয়।

করোনাভাইরাস ইস্যু নিয়ে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে খোদ আমেরিকাতে, ট্রাম্প নিজ দেশের জনগণকে বাঁচাতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, মোট ১ মিলিয়ন অর্থাৎ ১০ লক্ষ ১০ হাজা‌রের ও বেশি মানুষ আক্রান্ত এবং ৬০ হাজারের উপর অলরেডি নিহত।

যেই আমেরিকা ভিন্ন দেশের মানুষ হত্যা করতে আর নির্যাতিত অসহায় মুসলিমদের মারতে এত বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করল, যারা কয়েক-শো মানুষের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য কয়েক লক্ষ মানুষের প্রাণ নিলো তারা এখন নিজের নাগরিকদের বাঁচাতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

গতকাল আমেরিকার মেক্সিকোতে দেখা গিয়েছে ত্রাণ বিতরণের বেগে "বিন লা-দেনের" ছবি, তারা বলতেছিল, আসলে প্রতিদ্বন্দ্বী নেতাই আমাদের কাছে হিরো, কারণ যারা লক্ষ লক্ষ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ দিতে পারে শুধু মানুষ হত্যার জন্য কিন্তু মানুষ বাঁচানোর ক্ষেত্রে তাদের কোনো ভূমিকাই নেই, তারা কখনো বীর নেতা হতে পারে না।"


ফ্যাক্ট চেক:

প্রথমত, ভাইরাল হওয়া ছবিগুলো আমেরিকার নয়, এগুলো মেক্সিকোর Chihuahua প্রদেশের সান্তা বারবারা এলাকায় স্থানীয় ড্রাগ কার্টেল বা মাদক ব্যবসায়ী গ্যাংগের সদস্যদের ত্রাণ বিতরণের ছবি।

মেক্সিকান সংবাদমাধ্যম entrelineas.com.mx গত ২৩ এপ্রিল এক প্রতিবেদনে জানায়, স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী গ্যাংগের সদস্যরা করোনা ভাইরাস সংকটের সময় স্থানীয় মানুষদের জন্য ত্রাণ বিতরণ করেছে। এসব ত্রাণের প্যাকেটে বিন লাদেনের ছবি শোভা পেতে দেখা গেছে। গ্যাংগের সদস্যরা এসব ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছেন।

এ নিয়ে মার্কিন ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম ব্রেইবার্টেও একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।



দ্বিতীয়ত,
মেক্সিকো 'উত্তর আমেরিকা' মহাদেশের একটি রাষ্ট্র। আর 'আমেরিকা' একটি আলাদা রাষ্ট্র, যেটি ইংরেজিতে "United States (of America)" হিসেবে পরিচিত। বাংলায় এটিকে 'যুক্তরাষ্ট্র' বলা হয়। অন্যদিকে 'নিউ মেক্সিকো' নামে 'যুক্তরাষ্ট্র'র একটি অঙ্গরাজ্য রয়েছে।

ভাইরাল হওয়া পোস্টের প্রথম ৩টি প্যারায় বারবার 'আমেরিকা' বলতে 'যুক্তরাষ্ট্র' বুঝানো হয়েছে এবং সেটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভুলভাবে 'টেম্প' বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম ৩ প্যারার ধারাবাহিকতায় চতুর্থ ও শেষ প্যারায় "আমেরিকার মেক্সিকোতে" বলতে 'যুক্তরাষ্ট্র' বলেই প্রতীয়মান হয়।

কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ছবিগুলো মেক্সিকো নামক রাষ্ট্রের, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো জায়গার নয়।

এছাড়া ভাইরাল হওয়া পোস্টের শেষ প্যারায় "তারা বলতেছিল" বলে যে কথাগুলো তুলে ধরা হয়েছে তা ছবিগুলোর মূল সূত্র মেক্সিকান সংবাদমাধ্যম entrelineas.com.mx এর প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অন্যান্য মেক্সিকান যেসব সংবাদমাধ্যমে এসব ছবি প্রকাশিত হয়েছে সেগুলোতেও ত্রাণ গ্রহীতা বা দাতা কারো এমন কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, বিন লাদেনকে 'প্রতিদ্বন্দ্বী নেতা' বা 'হিরো' হিসেবে উল্লেখ করার কথাগুলো বানোয়াট।

Show Full Article
Next Story