রামিসার কাটা মাথার বলে প্রচারিত ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। গুগলের SynthID ডিটেকশন টুলে ছবিটি এআই দ্বারা তৈরি বলে ফলাফল পাওয়া গেছে।

[এই প্রতিবেদনের কিছু বর্ণনা এবং স্ক্রিনশট অস্বস্তিকর হতে পারে] গত ১৯ মে ঢাকার মিরপুরের পল্লবীতে রামিসা আক্তার নামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিশুকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। একইদিনে পাশের একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে তার দেহ এবং বাথরুম থেকে বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ২০ মে প্রধান অভিযুক্ত প্রতিবেশী জাকির হোসেন (সোহেল রানা) ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেফতার করা হয় এবং তদন্তের জন্য তাদের জবানবন্দি নেওয়া হয়।
এরই প্রেক্ষিতে দৃশ্যত ওয়াশরুমের বালতিতে রাখা রামিসার কাটা মাথার একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ২২ মে ‘Ahmed Shahin’ নামক একটি প্রোফাইল থেকে ছবিটি পোস্ট করা হয়। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, “রামিসার কাটা মাথা ভাসছে বালতির পানিতে।” পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট-চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, ছবিটি বাস্তব নয় মূলত এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ছবিটি তৈরি করা হয়েছে। গুগলের SynthID ডিটেকশন টুলে ছবিটি যাচাই করলে 'গুগলের এআই ইমেজ জেনারেটিভ মডেল ব্যবহার করা হয়েছে' বলে ফলাফল দিয়েছে এবং ছবিতে SynthID ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করেছে।
আলোচ্য ছবিটি রিভার্স সার্চ সহ বিভিন্নভাবে সার্চ করে উল্লেখযোগ্য কোনো মাধ্যমে ছবিটি পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ছবিটি পর্যবেক্ষণে এআই জনিত অসঙ্গতি পাওয়া যায়। ছবিটি অতি-মসৃণ (Ultra-polished) টেক্সচার এবং অবাস্তব ক্যালিগ্রাফি দিয়ে পূর্ণ। এআই কনটেন্টে একে বলা হয় "Production Quality Paradox" যা সাধারণত নিখুঁত এআই-সৃষ্ট ডিজিটাল আর্টে পাওয়া যায়।
নিখুঁত ফলাফল, তুলনামূলক কম সীমাবদ্ধতা, সহজলভ্যতা ও বিনামূল্যের হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে এআই দিয়ে ছবি তৈরির ক্ষেত্রে গুগলের জেনারেটিভ টুল 'জেমিনি (Gemini)' ব্যবহারের প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জেমিনির ২.৫ ফ্ল্যাশ বা তার চেয়ে উন্নত মডেলে (ছবির ক্ষেত্রে ন্যানো ব্যানানা বলা হয়) আগের চেয়েও বেশি বাস্তবের ন্যায় যে কোনো ধরনের ছবি তৈরি করতে সক্ষম।
ন্যানো ব্যানানা (Nano Banana) হলো গুগল-এর Gemini 2.5 Flash Image মডেলটির কোডনেম বা অভ্যন্তরীণ ডাকনাম। এই মডেলটি মূলত একটি উন্নত এআই ইমেজ এডিটিং মডেল যা টেক্সট কমান্ড বা বর্ণনা ব্যবহার করে ছবি তৈরি এবং সম্পাদনা করতে পারে। সর্বশেষ হালনাগাদে জেমিনির মডেলগুলোকে আরো উন্নত করা হয়েছে। এদিকে, গুগলের জেনারেটিভ টুলগুলো তাদের ইমেজ কনটেন্ট সাধারণ ওয়াটারমার্কিংয়ের পাশাপাশি 'SynthID' নামক এক ধরনের ওয়াটারমার্কিং ব্যবহার করে যা খালি চোখে শনাক্ত করা যায় না। তবে গুগলের SynthID ডিটেকশন টুল সেটি শনাক্ত করতে পারে।
পরবর্তীতে, ছবিটি জেমিনি টুল দিয়ে তৈরি কিনা নিশ্চিত হতে গুগলেরই SynthID ডিটেকশন টুলে এটিকে যাচাই করা হয়েছে। এই শনাক্তকরণ টুলের মাধ্যমে ফেসবুকে প্রচারিত ছবিটি যাচাই করলে 'গুগলের এআই ইমেজ জেনারেটিভ মডেল ব্যবহার করা হয়েছে' বলে ফলাফল দিয়েছে এবং ছবিতে SynthID শনাক্ত করেছে। দেখুন--
এখানে নীল চিহ্নিত অংশের অর্থ হলো এই জায়গাতে এআই এর লুকোনো ওয়াটারমার্ক পাওয়া গেছে (Detected)। এছাড়াও, ধূসর চিহ্নিত অংশের জায়গাতে টুলটি সরাসরি ওয়াটারমার্ক পায়নি তবে সম্ভাবনা রয়েছে (Unsure) এবং কমলা চিহ্নিত অংশের অর্থ হলো এই জায়গাতে ওয়াটারমার্ক পাওয়া যায়নি (Not detected)। তবে কোনো ছবির কোনো একটি অংশে এই লুকোনো ওয়াটারমার্ক পাওয়ার অর্থ হলো ছবিটি এআই দ্বারা তৈরি অথবা সম্পাদিত। যে যে অংশগুলোতে ধূসর ও কমলা দেখা যাচ্ছে সেই অংশগুলোর ওয়াটারমার্ক সাধারণত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে কিংবা সম্পাদনার কারণে মুছে যেতে পারে ফলে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অর্থাৎ ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্বারা তৈরি।
সুতরাং সামাজিক মাধ্যমে এআই দ্বারা তৈরি ছবি বাস্তব ছবি বলে প্রচার করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর।




