ইলেকট্রিক শক দিয়ে ছিনতাইয়ের আলোচ্য ভিডিওটি বাস্তব নয়
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, আলোচ্য ভিডিওটি অভিনয়ের মাধ্যমে শিক্ষা ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে তৈরি করেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটররা।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে বলা হচ্ছে, ছিনতাইয়ের নতুন কৌশল হিসেবে ইলেকট্রিক শকের ব্যবহার করা হচ্ছে। এরকম কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে। এছাড়াও, বেসরকারি সম্প্রচার মাধ্যম এসএটিভি নিউজ এবং দৈনিক গণকণ্ঠের ফেসবুক পেজেও একই দাবিসহ আলোচ্য ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।
গত ১২ অক্টোবর বেসরকারি সম্প্রচার মাধ্যম এসএটিভি নিউজের ফেসবুক পেজে আলোচ্য ভিডিওটি শেয়ার করে বলা হয়, "ছি'ন'তাইয়ের নতুন কৌশল ‘ইলেকট্রিক শক’ #satv #satvnews #viralvideoシ #hijacking #trendingnow #DhakaBangladesh"। ভিডিওটিতে একজন কিশোরকে অন্য একজন তরুণের ঘাড়ে স্প্রের মত কিছু একটা ছুঁইয়ে দিয়ে তার কাছে থাকা ব্যাকপ্যাক, মোবাইল ফোন এবং টাকা ছিনতাই করে নিয়ে চলে যেতে দেখা যায়। ফেসবুক পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য দাবিটি সঠিক নয়। আলোচ্য ভিডিওটি বাস্তব ঘটনার নয় বরং কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের অভিনয়ের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি, শিক্ষা এবং বিনোদনের উদ্দেশ্যে আলোচ্য ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। ভিডিওটি বাংলাদেশেরও নয়।
আলোচ্য ভিডিওটি সম্পর্কে জানতে ভিডিওটি থেকে কি-ফ্রেম কেটে নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে গত ৬ অক্টোবর 'The Ghumakkad' নামে ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্য থেকে পরিচালিত একটি ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট করা আলোচ্য ভিডিওটির মত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ওই ফেসবুক পোস্টটির ক্যাপশনে আলোচ্য ভিডিওটি বাস্তব ঘটনার নয় বলে উল্লেখ করে লেখা হয়, "ये देखो मांगने वाले ने जो किया देखकर यकीन नहीं होगा 😱 This is not a real incident just made for entertainment and awareness purpose (এটা দেখুন—ভিখারিটা কী করেছে, তা আপনি বিশ্বাসই করবেন না! 😱 এটি কোনো বাস্তব ঘটনা নয়; এটি কেবল বিনোদন ও সচেতনতার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। -অনুদিত)"। ফেসবুক পেজটিতে ডিসক্লেইমার হিসেবে বলা হয়, "এই পেজের সমস্ত ভিডিও শুধুমাত্র সচেতনতা ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে তৈরি বা চিত্রনাট্য অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে এগুলিকে গুরুত্ব সহকারে নেবেন না। (অনুদিত)"। ফেসবুক পোস্টটি দেখুন--
পরবর্তীতে ওই ফেসবুক পেজটি পর্যবেক্ষণ করে আলোচ্য ভিডিওতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিদেরকে আরো অসংখ্য ভিডিওতে অভিনয় করতে দেখা গেছে। ওই ব্যক্তিদের বিভিন্ন সময়ে অভিনয় করা একই রকম আরো কয়েকটি ভিডিও দেখুন এখানে, এখানে ও এখানে।
অর্থাৎ আলোচ্য ভিডিওটি কোনো বাস্তব ঘটনার নয়। সচেতনতা ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে ভিডিও ধারণ করে ফেসবুক পেজে পোস্ট করা ভিডিও শেয়ার করে ভিডিওর ঘটনাকে বাস্তব ঘটনা বলে দাবি করে প্রচার করা হচ্ছে।
সুতরাং স্ক্রিপ্টেড ভিডিও শেয়ার করে ইলেকট্রিক শক দিয়ে ছিনতাই করার বাস্তব ভিডিও বলে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




