তৃতীয় লিঙ্গ ব্যক্তির এক নারীকে বিয়ের জন্য জোর করার ভিডিওটি স্ক্রিপ্টেড
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তির একজন নারীকে জোর করে বিয়ে করতে চাওয়ার এই ভিডিওটি বাস্তব নয় বরং স্ক্রিপ্টেড।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে তৃতীয় লিঙ্গের একজন ব্যক্তির জোর করে এক নারীকে বিয়ে করতে চাওয়ার একটি ভিডিও পোস্ট করে বলা হচ্ছে, বাড়ি ছেড়ে বিয়ে করতে চলে এসে ওই নারী জানতে পারেন যাকে পুরুষ ভেবেছিলেন ওই ব্যক্তি আসলে একজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি । এরকম কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ১৮ জানুয়ারি 'PainHubツ' নামে একটি ফেসবুক পেজে আলোচ্য ভিডিওটি শেয়ার করে বলা হয়, "ফেসবুকে প্রেম করে, নিজের বাড়ি থেকে পালিয়ে আসে বিয়ের জন্য প্রেমিকের বাড়িতে, এসে দেখে প্রেমিক হিজরা🤣"। ফেসবুক পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। কনেকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার এই ভিডিওটি কোনো বাস্তব ঘটনার নয়। মূলত, বিনোদনমূলক ভিডিও তৈরির উদ্দেশ্যে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের তৈরি করা স্ক্রিপ্টেড ভিডিওকে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হচ্ছে।
আলোচ্য ভিডিওটি সম্পর্কে জানতে কি-ওয়ার্ড সার্চ করে গত ১৭ জানুয়ারি 'Dulal' নামে একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট করা আলোচ্য ভিডিওটির মত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। স্ক্রিনশট দেখুন--
আরো সার্চ করে ওই একই পেজে গত ১৮ জানুয়ারি পোস্ট করা আলোচ্য ভিডিওটির মত আরেকটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ওই ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা থাকতে দেখা যায়, "ফেসবুকে প্রেম বাড়িতে এসে দেখে প্রেমিক হিজরা, অতঃপর"। ফেসবুক ভিডিওটি দেখুন--
পরবর্তীতে Dulal নামে ওই পেজটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, আলোচ্য ভিডিওতে উপস্থিত একই ব্যক্তিদেরকে নিয়ে অভিনয়ের মাধ্যমে তৈরি করা আরো একাধিক ভিডিও ওই ফেসবুক পেজে খুঁজে পাওয়া যায়। এছাড়াও, পেজটির ইন্ট্রোতে আলোচ্য পেজটিতে বিনোদনমূলত ভিডিও পোস্ট করা হয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এরকম একটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন--
এছাড়াও, ওই ফেসবুক পেজে আলোচ্য ভিডিওটিতে উপস্থিত ব্যক্তিদের অভিনয় করা আরো কয়েকটি ভিডিওসহ ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে ও এখানে।
অর্থাৎ আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। আলোচ্য ভিডিওটিতে দেখানো একজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তির একজন নারীকে জোর করে বিয়ে করতে চাওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। বিনোদনমূলক ভিডিও তৈরির উদ্দেশ্যে আলোচ্য ভিডিওটি তৈরি করেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটররা।
সুতরাং কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বানানো ভিডিওকে বাস্তব ঘটনা বলে দাবি করে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




