শিশুর সাথে ছোট গরিলার দড়ি টানাটানির ভিডিওটি এআই দ্বারা তৈরি
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, শিশুর সাথে ছোট গরিলার দড়ি টানাটানির দৃশ্য বলে প্রচারিত ভিডিওটি বাস্তব নয় বরং এআই প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে যেখানে একটি ছোট শিশু চিড়িয়াখানায় কাঁচের দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে একটি গরিলার সাথে দড়ি টানাটানির দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। এরকম একটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ১২ আগস্ট দৈনিক যুগান্তরের ‘Jugantor News’ নামক ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়েছে, 'শিশুর সঙ্গে গরিলার দড়ি টানাটানি............। স্ক্রিনশট দেখুন --
ফ্যাক্ট-চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, ভিডিওটি বাস্তব নয়। মূলত এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রচারিত গরিলার সাথে দড়ি টানাটানির এই ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। ভিডিওটি ‘হাইভ’ (Hive) নামক এআই-ডিপফেক শনাক্তকারী টুল ব্যবহার করে যাচাই করা হয়েছে। বিশ্লেষণে টুলটি ভিডিওটিকে ‘এআই তৈরি’ (AI-generated) হিসেবে শনাক্ত করেছে।
ভিডিওটি নিয়ে সার্চ করে গ্রহণযোগ্য কোনো মাধ্যমে ভিডিওটি বাস্তব ঘটনার ফুটেজ হওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সার্চ করে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানারের করা একটি আর্কাইভ পাওয়া যায়। আর্কাইভ থেকে দেখা গেছে, ‘Yueera’ নামক একটি ফেসবুক পেজে গত ০৮ আগস্ট একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে।
যদিও ভিডিওটি এখন পেজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে তবে সার্চ করে একই শিরোনামে ভিডিওটি একটি ফেসবুক প্রোফাইলে পাওয়া যায়। যুগান্তরের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ভিডিওর সাথে প্রাপ্ত ভিডিওর মিল রয়েছে। ‘Yueera’ নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি প্রচারের সময়ে ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে- এমন লেবেল সংযুক্ত করা হয়েছিল। আর্কাইভের স্ক্রিনশট দেখুন --
ভিডিওটি পর্যবেক্ষণে কিছু অবাস্তব দৃশ্য কিংবা অসঙ্গতি পাওয়া যায়। দড়ির সাথের লাল কাপড়টি প্রথমে দড়ির সাথে বাঁধা না দেখালেও পরবর্তীতে সেটি দড়ির সাথে বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়। এছাড়াও বড় গরিলাটি যখন দড়িটি টান দিয়ে নিজের দিকে নিয়ে যায় সেই দৃশ্যে অবাস্তবভাবে দড়িটি একপাশ থেকে দ্রুতই অন্যপাশে চলে যায়। এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওতে প্রায়ই পদার্থবিজ্ঞানের সাধারণ নিয়মের ব্যত্যয় দেখা যায় এবং দৃশ্যের ক্রমান্বয়তার (Visual Inconsistency) অমিল পাওয়া যায়।
নিখুঁত ফলাফল, তুলনামূলক কম সীমাবদ্ধতা, সহজলভ্য হওয়ায় এআই দিয়ে ভিডিও তৈরির ক্ষেত্রে গুগলের ভিডিও জেনারেশন টুল 'Veo' বা ভিও'য়ের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। ভিও হলো গুগলের একটি প্রায় বাস্তবসম্মত ভিডিও জেনারেশন টুল যা গুগল ডিপমাইন্ড দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। এটি টেক্সট-টু-ভিডিও জেনারেশন, ইমেজ-টু-ভিডিও তৈরি করার টুল এবং সর্বশেষ সংস্করণ, Veo-3 (ভিও-৩) ভিডিওর পাশাপাশি নেটিভ অডিও তৈরি করতে পারে।
এছাড়াও গুগলের জেনারেটিভ টুল তাদের কন্টেন্টে 'SynthID' নামক এক ধরণের ওয়াটারমার্কিং ব্যবহার করে যা শোনা যায় না বা খালি চোখে শনাক্ত করা যায় না। তবে গুগলের SynthID ডিটেকশন টুল সেটি শনাক্ত করতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় আলোচ্য ভিডিওটি যাচাই করলে টুলটি শুধুমাত্র ভিডিওতে 'SynthID' ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করেছে। দেখুন --
ভিডিওর অডিও পরিবর্তন করে ভিন্ন অডিও যুক্ত করা কিংবা আবহ শব্দের পরিবর্তন করলে ভিও দিয়ে তৈরি করা ভিডিওতে SynthID ওয়াটারমার্ক পাওয়া গেলেও অডিওতে তা পাওয়া যায়না।
পরবর্তীতে আরেক এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল 'হাইভ' দিয়ে মূল ভিডিওটি যাচাই করলে টুলটি ভিডিওটিকে ৯৯.৭ শতাংশ সম্ভাব্য এআই জেনারেট ভিডিও বলে ফলাফল দিয়েছে। দেখুন --
অর্থাৎ ভিডিওটি এআই দ্বারা তৈরি।
সুতরাং সামাজিক মাধ্যমে 'শিশুর সাথে ছোট গরিলার দড়ি টানাটানির দৃশ্য' মর্মে যে ভিডিওটি প্রচার করা হচ্ছে, সেটি বাস্তব ভিডিও নয়।




