নারী নির্যাতনকারী ব্যক্তিটি জামায়াত নেতা নয়
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, আলোচ্য ভিডিওতে এক নারীর চুল কেটে দেয়া ব্যক্তিটি আলী হাসান নয় এমনকি তিনি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত নন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, সাপের খেলা দেখাতে এলাকায় প্রবেশ করায় বেদে সম্প্রদায়ের নারীদের চুল কেটে দিয়েছে মুগদা উপজেলা জামায়াত ইসলামীর এক নেতা আলী হাসান। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
গত ৪ জুন ‘Nationalist Rofik’ নামক একটি পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে উল্লেখ করা হয়, “জামাতের নেতা আলী হাসান এমন নেক্কারজনক কার্যক্রমের তীব্র নিন্দা জানাই...।” নিচে পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে আলোচ্য ভিডিওটি মুগদা উপজেলা জামায়াত ইসলামীর নেতা আলী হাসান কর্তৃক বেদে সম্প্রদায়ের নারীদের চুল কেটে দেওয়ার নয়; বরং এটি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ডহরগাঁও এলাকায় স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগে তিন নারীকে বেঁধে মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় ধারণ করা ভিডিও।
আলোচ্য ভিডিওটি থেকে কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে “চুরির অভিযোগে তিন নারীকে বেঁধে নির্যাতন, কাটা হলো চুল” শিরোনামে ‘ইত্তেফাক’ পত্রিকার ওয়েবসাইটে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। যেখানে বলা হয়, ”নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ডহরগাঁও এলাকার ব্যবসায়ী সেলিম মিয়ার বাড়িতে তিন নারী প্রবেশ করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগে স্থানীয় লোকজন নারীদের আটক করেন। পরে তাদের দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে কাঁচি দিয়ে তাদের মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। সর্বশেষ পুলিশ গিয়ে ওই তিন নারীকে হেফাজতে নেয়।” স্ক্রিনশট দেখুন--
রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ‘Khaborer Kagoj-খবরের কাগজ’ পত্রিকার ফেসবুক পেজে গত ২ মার্চ একটি ভিডিও পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়। যেই পোস্টের সাথে ফেসবুকে আলোচ্য দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর মিল পাওয়া যায়। যেখানে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চুরির দায়ে ৩ নারীকে বেঁধে চুল কেটে নির্যাতন করা হয়। পোস্টটি দেখুন--
কি-ওয়ার্ড সার্চ করে “তিন নারীকে বেঁধে চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় ২ মামলা, গ্রেফতার ৪” শিরোনামে ‘যুগান্তর’ পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। যেখানে বলা হয়, চুরির অভিযোগে তিন নারীকে বেঁধে মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় পৃথক দুইটি মামলা করা হয়েছে। নারীদের মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত সেলিম ভুঁইয়াকে ও চুরির দায়ে অভিযুক্ত সুমাইয়া আক্তার (৩২), ইতি আক্তার (২৮) ও শারমিন আক্তারকে (৩০) গ্রেফতার করে নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। স্ক্রিনশট দেখুন--
অর্থাৎ আলোচ্য ভিডিওটি মুগদা নামে কোনো এলাকার নয়; নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার একটি ঘটনার। এছাড়া ভিডিওতে দৃশ্যত এক নারীর চুল কেটে দেয়া ব্যক্তিটির নাম সেলিম ভুঁইয়া; আলী হাসান নয়। এমনকি মূল অভিযুক্ত এই ব্যক্তিটি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত নন।
সুতরাং নারায়ণগঞ্জের ভিন্ন ঘটনার ভিডিও দিয়ে আলী হাসান নামের এক জামায়াত নেতা কর্তৃক তিন নারীকে নির্যাতন করছে দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




