ভিন্ন ঘটনার ছবি যুক্ত করে একটি পুরোনো খবর ফেসবুকে ভাইরাল

বুম বাংলাদেশ দেখেছে, ২০২০ সালের একটি খবরের সাথে ভিন্ন ঘটনার ছবি যুক্ত করে নতুনভাবে প্রচার করা হচ্ছে; যা বিভ্রান্তিকর।

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের একাধিক আইডি ও পেজ থেকে, সুদের টাকা দিতে না পারায় স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে পাওনাদারের হাতে তুলে দেয়া সংক্রান্ত একটি খবর একাধিক অনলাইন পোর্টালের লিংক শেয়ার করে পোস্ট করা হচ্ছে। খবরের সাথে নব-বিবাহিত স্বামী-স্ত্রীর একটি ছবিও যুক্ত করা আছে। এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে

'Shofulla Shofulla' নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত ১০ আগস্ট অখ্যাত একটি অনলাইন পোর্টালের লিংক পোস্ট করে লেখা হয়েছে, 'সুদের টাকা দিতে না পারাই দেনাদারের স্ত্রীকে জোর করে বিয়ে করলেন পাওনাদার বিস্তারিত দেওয়া আছে ভিতরে'

পোস্টটি দেখুন এখানে

হুবহু একই শিরোনামে প্রকাশিত অনলাইন পোর্টালের লিংকে গিয়ে দেখা যায় প্রতিবেদনটির ডেটলাইনে প্রকাশের তারিখ হিসাবে '১০ আগস্ট, ২০২১' উল্লেখ করা আছে। অর্থাৎ, খবরের ডেটলাইনে উল্লেখ করা তারিখ দেখে মনে হচ্ছে ঘটনাটি সাম্প্রতিক। স্ক্রিনশট দেখুন-

খবরটি দেখুন এখানে

ফ্যাক্ট চেক:

বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, এটি সাম্প্রতিক ঘটনা নয়।

বিভিন্ন কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করার পর দেখা গেছে, ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর দৈনিক সমকাল অনলাইনে "স্ত্রীকে পাওনাদারের হাতে তুলে দিয়েছিলেন স্বামী, তারপর..." শিরোনামে এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। খবরটিতে বলা হয়-

"মাগুরায় সুদের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে পাওনাদারের হাতে নিজের স্ত্রীকে তুলে দেন স্বামী। পরে পাওনাদার ইসমাইল ওই গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্মান্তারিত করে বিয়েও করেন। এরপর তার উপর চলতে থাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে এক পর্যায়ে সুদখোর স্বামীর বাড়ি থেকে পালিয়ে তাকে তালাক দেন ওই গৃহবধূ। তারপরও ওই নারীর পিছু ছাড়ছে না ওই ব্যক্তি। বাধ্য হয়ে বিষয়টি মিমাংসার জন্য ওই নারী দারস্থ হয়েছেন জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তার কাছে।"

দৈনিক সমকাল অনলাইনের প্রতিবেদনটি দেখুন এখানে

বর্তমানে ভাইরাল হওয়া খবরটির সাথে দৈনিক সমকাল অনলাইনে ২০২০ সালে প্রকাশিত খবরটির হুবহু মিল পাওয়া গেছে। দুটি খবরের স্ক্রিনশট পাশাপাশি দেখুন-

দৈনিক সমকাল (বামে) এবং আলোচ্য অনলাইন পোর্টালের (ডানে) পাশপাশি স্ক্রিনশট দেখুন

তবে সমকালের প্রতিবেদনের সাথে কোনো ছবি ব্যবহার করা হয়নি। ছবিটির উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য রিভার্স সার্চ করার পর দেখা গেছে, আলোচ্য অনলাইন পোর্টালে ব্যবহার করা ছবিটি ভিন্ন একটি ঘটনার। ২০২০ সালের ২৬ অক্টোবর "অল্প বয়সের বিয়েই কেড়ে নিল কিশোরীর জীবন" শিরোনামে দৈনিক যুগান্তর অনলাইনে প্রকাশিত একটি খবরে আলোচ্য অনলাইন পোর্টালে ব্যবহার করা ছবিটি খুঁজে পাওয়া গেছে। খবরটিতে বলা হয়, সে বছর টাঙ্গাইলের বাসাইলে বিয়ের ৩৪ দিন পর নুরনাহার (১৪) নামের এক কিশোরী গৃহবধূর মৃত্যু হয়, ছবিটি সেই কিশোরীর।

খবরটি দেখুন এখানে

অর্থাৎ দৈনিক সমকালের এক বছর পুরনো একটি খবরকে হুবহু কপি করে, ভিন্ন স্থান ও প্রেক্ষাপটের একটি ঘটনার ছবি যুক্ত করে নতুন ডেটলাইনে আলোচ্য অনলাইন পোর্টালটিতে প্রকাশ করা হয়েছে।

সুতরাং মাগুরায় সুদের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে পাওনাদারের হাতে তুলে দেয়া সংক্রান্ত প্রকাশিত এক বছর পুরোনো খবরের সাথে টাঙ্গাইলের ভিন্ন ঘটনার একটি ছবি যুক্ত করে অপ্রাসঙ্গিকভাবে নতুন করে ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে; যা বিভ্রান্তিকর।

Claim Review :   সুদের টাকা দিতে না পারাই দেনাদারের স্ত্রীকে জোর করে বিয়ে করলেন পাওনাদার
Claimed By :  Facebook Posts
Fact Check :  Misleading
Show Full Article
Next Story