মানসুরাকে দেখে নাহিদ ও মাহমুদা মিতুর নাক চেপে ধরার এই ছবিটি এআই তৈরি
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, ছবিটি এআই জেনারেটেড। ছবিটিতে এআই এর লুকোনো ওয়াটারমার্ক রয়েছে বলে গুগলের SynthID শনাক্তকরণ টুল নিশ্চিত করেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে একটি ছবি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মানসুরাকে দেখে এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি ও এনসিপির সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু নাক চেপে ধরেছেন। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
গত ৫ মে ‘Mohammed Abdullah’ নামক একটি আইডি থেকে ছবিটি পোস্ট করে উল্লেখ করা হয়, “মানসুরা খালার সাথে এটা এক্কেবারে অন্যায় হয়েছে।” নিচে পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, ছবিটি বাস্তব নয়। অর্থাৎ এটি মানসুরাকে দেখে নাহিদ ও মাহমুদা মিতুর নাক চেপে ধরার বাস্তব দৃশ্যের নয় বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।
আলোচ্য ছবিটি নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে গ্রহণযোগ্য কোনো মাধ্যমে দাবি অনুযায়ী ছবিটি বাস্তব হওয়ার বিষয়ে কিংবা ছবির বিষয়েও উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ছবিটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ছবিটিতে দুইজন ব্যক্তির নাক চেপে ধরার ভঙ্গি, হাতের আঙুলের বিন্যাস বা কবজির গঠন স্বাভাবিকের তুলনায় অস্পষ্ট। ছবিতে আলো ও ছায়ার অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়। ছবির পেছনের অংশে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের গঠন এবং ইটের দেয়ালের টেক্সচার অস্পষ্ট।
আলোচ্য ছবিটি এআই ব্যবহার করে তৈরি করা ছবির বৈশিষ্ট্যও পরিলক্ষিত হয়।
পরবর্তীতে, পরবর্তীতে গুগল এআই শনাক্তকরণ প্রযুক্তি SynthID ব্যবহার করে এই ছবিটির বড় অংশ বা সম্পূর্ণটি এআই দিয়ে তৈরি বা এডিট করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ছবিটির ফলাফলের স্ক্রিনশট দেখুন--
এখানে নীল চিহ্নিত অংশের অর্থ হলো এই জায়গাতে এআই এর লুকোনো ওয়াটারমার্ক পাওয়া গেছে (Detected)। এছাড়াও, ধূসর চিহ্নিত অংশের জায়গাতে টুলটি সরাসরি ওয়াটারমার্ক পায়নি তবে সম্ভাবনা রয়েছে (Unsure) এবং কমলা চিহ্নিত অংশের অর্থ হলো এই জায়গাতে ওয়াটারমার্ক পাওয়া যায়নি (Not detected)। তবে কোনো ছবির কোনো একটি অংশে এই লুকোনো ওয়াটারমার্ক পাওয়ার অর্থ হলো ছবিটি এআই দ্বারা তৈরি অথবা সম্পাদিত। যে যে অংশগুলোতে ধূসর ও কমলা দেখা যাচ্ছে সেই অংশগুলোর ওয়াটারমার্ক সাধারণত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে কিংবা সম্পাদনার কারণে মুছে যেতে পারে ফলে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অর্থাৎ আলোচ্য ছবিটি বাস্তব নয় বরং এটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ছবিকে মানসুরাকে দেখে নাহিদ ও মাহমুদা মিতুর নাক চেপে ধরার বাস্তব দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




