হাতমোজা পরে খাবার খাওয়ার ছবিটি এআই ব্যবহার করে তৈরি
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, ছবিটি এআই দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। ছবিতে ওপেনএআই কর্তৃক গৃহীত গুগলের সিন্থআইডি প্রযুক্তির ওয়াটারমার্ক পাওয়া গেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি প্রচার করে উল্লেখ করা হয়েছে, 'বোরকা পরিহিত একজন নারী হাতমোজা না খুলেই খাবার খাচ্ছেন'। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, ও এখানে।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর ‘Taslima Nasrin’-এর ফেসবুক হ্যান্ডেল থেকে ছবিটি পোস্ট করা হয়। পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন --
ফ্যাক্ট-চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি সঠিক নয়। আলোচ্য ছবিটি ওপেনএআই এর ইমেজ জেনারেশন টুলের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। ছবিতে ওপেনএআই কর্তৃক গৃহীত SynthID (সিন্থআইডি) প্রযুক্তির ওয়াটারমার্ক পাওয়া গেছে।
সার্চ করে আলোচ্য ছবিটি গ্রহণযোগ্য কোনো মাধ্যমে পাওয়া যায়নি। ছবিতে ব্যানারে প্রতিষ্ঠানের নাম পুরোটা উল্লেখ নেই শুধু 'মাদ্রাসা' লেখা। এছাড়াও পেছনে খাবার খেতে থাকা নারীদের হাতের ক্ষেত্রেও অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে। সাধারণত এআই দিয়ে তৈরি ছবিতে এরকম অসঙ্গতি পাওয়া যায়।
ফলে ছবিটি এআই দ্বারা তৈরি কিনা তা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়। যাচাইয়ে ছবিটি ওপেনএআই তথা চ্যাটজিপিটি দিয়ে তৈরি বলে ফলাফল দিয়েছে এবং SynthID (সিন্থআইডি) ওয়াটারমার্ক পাওয়া গেছে বলে ফলাফলে উল্লেখ করা হয়েছে। Google DeepMind -এর তৈরি ডিজিটাল ওয়াটারমার্কিং প্রযুক্তি SynthID মূলত এক ধরনের কনটেন্ট ওয়াটারমার্ক যা খালি চোখে দেখা বা স্বাভাবিকভাবে শনাক্ত করা যায় না।
গত ১৯ মে থেকে OpenAI তাদের ইমেজ কনটেন্টে 'Content Credentials'-এর পাশাপাশি Google DeepMind -এর এই প্রযুক্তিও নিজস্ব সংস্করণে যুক্ত করেছে। সাধারণ ছবি সম্পাদনা কিংবা মেটাডাটা মুছে যাওয়ার পরেও গুগলের এই SynthID ওয়াটারমার্কটি টিকে থাকতে পারে এবং নির্ধারিত বিশেষ টুলের মাধ্যমে এটি শনাক্ত করা যায়।
ওপেনএআই-এর SynthID শনাক্তকরণ টুলে যাচাইয়ের পরে প্রাপ্ত ফলাফলের স্ক্রিনশট দেখুন --
তবে 'আলেমা ফারিয়া আক্তার' নামের একটি প্রোফাইলে আলোচ্য ছবিটি সহ একটি পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টে ছবিটিকে 'এআই লেবেল' যুক্ত করা হয়েছিলো। দেখুন --
তবে 'আলেমা ফারিয়া আক্তার' নামের একটি প্রোফাইলে গত ২২ সেপ্টেম্বর আলোচ্য ছবিটি সহ একটি পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টে 'এআই লেবেল' যুক্ত করা হয়েছিলো। অর্থাৎ, পোস্টে যুক্ত ছবিটি এআই দ্বারা তৈরি সেই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। দেখুন --
অর্থাৎ ছবিটি এআই এর সাহায্যে তৈরি।
উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী কোনো বাস্তব দৃশ্যকে এআই দ্বারা সম্পাদনার মাধ্যমে নতুন সংস্করণের হুবহু একই ছবি তৈরি করলেও এই ধরণের কনটেন্টকে এআই তৈরি কনটেন্ট বলা হয়। এবং এই ধরণের কোনো কনটেন্টে কোনো ব্যক্তিকে (সাধারণত) বা ব্যক্তির উপস্থিতি সহ কোনো কাজকে নকল করার চেষ্টা করা হলে তা ডিপফেক কনটেন্ট হিসেবে গণ্য হয়।
সুতরাং সামাজিক মাধ্যমে এআই তৈরি ছবি বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হয়েছে।




