তুরাগ নদীতে ভাসমান মৃতদেহ দাবি করে সিলেটের ভিডিও প্রচার
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, টঙ্গীর তুরাগ নদীতে নয়, অর্ধগলিত একটি লাশ ভেসে ওঠার দৃশ্যটি সিলেটের সুরমা নদী থেকে ধারণ করা হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে নদীর পানিতে ভেসে ওঠা একটি মরদেহের ভিডিও শেয়ার করে বলা হচ্ছে, টঙ্গীর তুরাগ নদীতে ছাত্রলীগ সমর্থকের মরদেহ ভেসে যাচ্ছে। এরকম কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ২৭ জুন 'মিয়া ভাই' নামে একটি "“তুরাগ নদীতে ভেসে যাচ্ছে সুমনের মরদেহ। মনে রেখো, মনে রাখবে বাংলাদেশ। সুমন, ক্ষমা করে দিও। ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রইলাম।”"। ফেসবুক পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। টঙ্গীর তুরাগ নদীতে নয়, অর্ধগলিত লাশ ভেসে ওঠার এই দৃশ্যটি সিলেটের গোলাপগঞ্জে সুরমা নদী থেকে ধারণ করা হয়েছে।
আলোচ্য ভিডিওটি সম্পর্কে জানতে ভিডিওটি থেকে কি-ফ্রেম কেটে নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে 'Rahat Afnan Ahmed' নামে একটি ফেসবুক একাউন্ট থেকে গত ২৬ জুন পোস্ট করা আলোচ্য ভিডিওটির মত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনে লেখা থাকতে দেখা যায়, "ইন্না-লিল্লাহ গোলাপগঞ্জ সুরমা নদীতে থানা গাট এ পানিতে ভেসে এসেছে একটি লা*শ."। ফেসবুক পোস্টটি দেখুন--
উপরের পোস্টের সূত্র ধরে সিলেট থেকে পরিচালিত অনলাইন পোর্টাল সুরমা টাইমসের ওয়েবসাইটে গত ২৭ জুন "গোলাপগঞ্জে সুরমা নদী থেকে অর্ধগলিত অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার" শিরোনামে প্রচারিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটিতে যুক্ত ছবির মৃতদেহের সাথে আলোচ্য ভিডিওটিতে দেখানো মৃতদেহের মিল রয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, "সিলেটের গোলাপগঞ্জে সুরমা নদী থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় পৌর শহরের কাঁচাবাজার খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা বিকেল ৪টার দিকে নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ডাঙায় তোলে। পুলিশের ধারণা, মৃত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৪৫ বছর। মরদেহ পচে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।" স্ক্রিনশট দেখুন--
এছাড়াও, সিলেট সংবাদ নামে আরেকটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত প্রতিবেওদন থেকেও একই তথ্য পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে, আরো সার্চ করে সিলেট থেকে পরিচালিত 'Golapganj Tv' নামে একটি ফেসবুক পেজে গত ১৬ জুন করা একটি লাইভ ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ওই ভিডিওটির শুরুতে একই ধরণের একটি মৃতদেহের দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। লাইভ ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা থাকতে দেখা যায়, "গোলাপগঞ্জের সুরমা নদী থেকে অজ্ঞা*ত ম*রদেহ উদ্ধার!।"। ফেসবুক লাইভটি থেকে কেটে নেওয়া একটি স্ক্রিনশট দেখুন এখানে--
ওই একই ফেসবুক পেজে করা আরেকটি পোস্ট দেখুন এখানে।
এছাড়াও, তুরাগ নদীতে হত্যাকাণ্ডের সাথে এই ভিডিওটির কোনো সম্পর্ক আছে কিনা জানতে গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করে বুম বাংলাদেশ। এই ভিডিওর সাথে তুরাগ নদীতে সংঘটিত কোনো ঘটনার সাথে সম্পর্ক নেই বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
এছাড়া, সিলেট ভয়েস নামে একটি অনলাইন পোর্টালেও সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোলাপগঞ্জ-জকিগঞ্জ সার্কেল) মো. শাহআলম এবং গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আরিফুল ইসলামের বক্তব্যের বরাতে আলোচ্য ভিডিওটি তুরাগ নদীর হওয়ার দাবিটি মিথ্যা বলে জানানো হয়।
অর্থাৎ, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। টঙ্গীর তুরাগ নদীতে নয়, অর্ধগলিত লাশ ভেসে ওঠার এই দৃশ্যটি সিলেটের গোলাপগঞ্জে সুরমা নদী থেকে ধারণ করা হয়েছে।
সুতরাং সিলেটের সুরমা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া লাশের ভিডিও শেয়ার করে তুরাগ নদীতে লাশ উদ্ধারের বলে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




