ভারতীয় জেনারেলের জওয়ানদের পদত্যাগ সম্পর্কিত ডিপফেক ভিডিও প্রচার
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, ভারতীয় জেনারেলের ভিন্ন একটি ভিডিওতে মূল অডিও পরিবর্তন করে ডিপফেক অডিও যুক্ত করে প্রচার করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলছেন- ভারতে ছাত্রদের উপর আক্রমণের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন দেশটির ৩০ হাজার সেনা সদস্য। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ২৬ জুলাই 'Peoples News' নামক একটি পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, '৩০,০০০-এরও বেশি ভারতীয় সেনা জওয়ান পদত্যাগ করেছেন, কারণ তাঁদের অভিযোগ, নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে তাঁদের সন্তানদের লাঠি দিয়ে পেটানো হচ্ছে। তাঁরা ভারত সরকারের সেবা করতে অস্বীকার করছেন এবং এটি একটি বিপর্যয়ে পরিণত হচ্ছে। আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অনুরোধ করছি, তিনি যেন এগিয়ে এসে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করান। অন্যথায়, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী বিভক্ত ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে (অনূদিত)'।
পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন --
ফ্যাক্ট-চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, ভিডিওটি বাস্তব নয়। ভারতের প্রতিরক্ষা চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল এনএস রাজা সুব্রহ্মণি'র একটি ভিন্ন ভিডিওর অডিও পরিবর্তন করে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি আরেক অডিও (কথা) যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
দাবিটি নিয়ে সার্চ করে ৩০ হাজার সেনা সদস্যের পদত্যাগের বিষয়ে গ্রহণযোগ্য কোনো মাধ্যমে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ভিডিওটি নিয়ে সার্চ করে এক্স প্ল্যাটফর্মে (সাবেক টুইটার) একটি ভিডিও পাওয়া যায়। প্রাপ্ত ভিডিওর একটি অংশের সাথে প্রচারিত ভিডিওটির দৃশ্য হুবহু মিলে যায়।
ভিডিওর দৃশ্য মিলে গেলেও দুই ভিডিওর অডিও পুরোপুরি ভিন্নতা পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত ভিডিওতে শোনা যায় (অডিও) জেনারেল সুব্রহ্মণি ১৩৫তম ডুরান্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে শুভকামনা জানাচ্ছিলেন। ৩০ হাজার সেনা সদস্যের পদত্যাগ বা এজাতীয় কিছু বলতে শোনা যায়নি। এক্স পোস্টের ক্যাপশনেও এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাপ্ত ভিডিওতে দেওয়া তার বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ পড়ুন --
প্রাপ্ত ভিডিওটির স্ক্রিনশট দেখুন --
যেহেতু মূল (দীর্ঘ সংস্করণের) ভিডিওর সাথে প্রচারিত আলোচ্য ভিডিওটির (কম দৈর্ঘ্যের) অডিও ভিন্নতা রয়েছে সেহেতু প্রতীয়মান হয় দীর্ঘ সংস্করণের ভিডিওটি থেকে কিছু অংশ নিয়ে অডিওটি আলাদা করে তৈরি করে যুক্ত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এআই দিয়ে অডিও তৈরি করে এরকমটা করার নজির রয়েছে।
ফলে ভিডিওটি এআই-ডিপফেক কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুল দিয়ে চেক করা হয়। এ সংক্রান্ত টুল 'হাইভ' এর মাধ্যমে যাচাই করলে টুলটি ভিডিওটির শুধুমাত্র অডিওকে এআই (ডিপফেক) বলে ফলাফল দিয়েছে, ভিডিওকে নয়। দেখুন --
উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী কোনো বাস্তব দৃশ্যেকে এআই দ্বারা সম্পাদনার মাধ্যমে নতুন সংস্করণের হুবহু একই ছবি-ভিডিও তৈরি করলেও এই ধরণের কনটেন্টকে এআই তৈরি কনটেন্ট এবং এই ধরণের কোনো কনটেন্টে কোনো ব্যক্তিকে (সাধারণত) বা ব্যক্তির উপস্থিতি সহ কোনো কাজকে নকল করার চেষ্টার মাধ্যমে বিকৃত করা হলে তা ডিপফেক কনটেন্ট হিসেবে গণ্য হয়।
অর্থাৎ ভিডিওটির অডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্বারা তৈরি করে সম্পাদনার মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছে।
সুতরাং ভারতীয় এক সেনা কর্মকর্তার ভিন্ন ইভেন্টের ভিডিওতে এআই তৈরি অডিও তথা ডিপফেক অডিও যুক্ত করে ভুয়া দাবি সহ প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




