ভিন্ন ব্যক্তিকে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সাথে জিয়াউর রহমানের করমর্দনের বলে প্রচার
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, দাবিটি সঠিক নয়। ভিডিওর ব্যক্তি একজন মধ্যবয়সী; আর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মারা গেছেন ১৯৪৮ সালে যখন জিয়াউর রহমানের বয়স ছিলো ১১ বা সর্বোচ্চ ১২ বছর।

সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাকিস্তানের পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সাথে মোলাকাত (করমর্দন) করার জন্য লাইনে দাড়ানো ও পরে হাত মেলানোর অবস্থার ভিডিও। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর ‘S M Abdullah’ নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে উল্লেখ করা হয়, “মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সাথে মোলাকাত করার জন্য লাইনে দাড়ানো জিয়াউর রহমানের কর্মীরা এখন জিন্নাহর ছবি ভাঙচোর করে!” পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট-চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি সঠিক নয়। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মারা গেছেন ১৯৪৮ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর, ফলে ফুটেজটি কোনোভাবেই ১৯৪৮ সালের সেপ্টেম্বরের পরের নয়। এদিকে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জন্মগ্রহণ করেছেন ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি, তাই ১৯৪৭-৪৮ সালে জিয়াউর রহমানের বয়স তখন ১১ বছর বা সর্বোচ্চ ১২ বছর। তিনি করাচির একাডেমি স্কুল থেকে তার মাধ্যমিক শিক্ষাই শেষ করেন ১৯৫২ সালে।
ভিডিওটি থেকে কী-ফ্রেম নিয়ে অনুসন্ধানে ইউটিউবে একটি চ্যানেলে ২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটির ৪৭ সেকেন্ডের করমর্দনের সাথে দৃশ্যের সাথে প্রচারিত ভিডিওটির ৩ সেকেন্ডের করমর্দনের দৃশ্য হুবহু মিলে যায়। ভিডিওটির বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল জিন্নাহর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। ভিডিওটি রঙ্গিন সংস্করণে উন্নীতকরণ করা হয়েছে বলেও শিরোনামে উল্লেখ করেছে।
প্রচারিত ভিডিওটির স্থিরচিত্র (বামে) ও ইউটিউবে পাওয়া ভিডিওটির একই দৃশ্যের স্থিরচিত্রের (ডানে) পাশাপাশি মিল দেখুন --
একই শিরোনামে ভিডিওটি আরও কয়েকটি চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়েছে। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মারা গেছেন ১৯৪৮ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর, ফলে ফুটেজটি কোনোভাবেই ১৯৪৮ সালের সেপ্টেম্বরের পরের নয়।
এদিকে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জন্মগ্রহণ করেছেন ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি, তাই ১৯৪৭-৪৮ সালে জিয়াউর রহমানের বয়স তখন ১১ বছর বা সর্বোচ্চ ১২ বছর। তিনি ১৯৫২ সালে করাচির একাডেমি স্কুল থেকে তার মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করেন। কিন্তু ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সাথে করমর্দনকারী ব্যক্তি মধ্যবয়সী একজন ব্যক্তি। তবে সে ব্যক্তির বিস্তারিত সম্পর্কে জানা যায়নি।
অর্থাৎ ভিডিওতে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ'র সাথে করমর্দনকারী ব্যক্তি জিয়াউর রহমান নন।
সুতরাং, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ'র সাথে করমর্দনকারী ভিন্ন এক ব্যক্তিকে জিয়াউর রহমান বলে প্রচার।




