পুরনো ছবির সাথে রোগী ও কবুতরের ভুয়া গল্প ভাইরাল

ফেসবুকে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। সেখানে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা এক রোগীর গায়ে কবুতর বসে আছে- এমন একটি ছবির ক্যাপশনে একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে।

এরকম একটি পোস্টে লেখা হয়েছে--

"যে ভালোবাসা আছে কবুতরের, সে ভালোবাসা নেই মানুষের

যে নার্স এই ছবিটি তুলেছেন তিনি বলেছেন, বয়স্ক ভদ্রলোকটি হাসপাতালে ভর্তি হবার ৩ দিন পরও পরিবারের তরফ থেকে একবারের জন্যেও কেউ এসে উনার খোঁজ খবর নেয় নি, কিন্তু একটি কবুতর গত ২ দিন ধরে রোজ একবার এসে উনার শরীরের উপর বসে আবার চলে যেত।

পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই হাসপাতালের পাশের এক পার্কে বসে রোজ সকালবেলা উনি এই কবুতরটাকে কিছু খাবার খেতে দিতেন!"


এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এখানে

Banglarkhobor24.com' নামের অনলাইন পোর্টালে এ নিয়ে প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়েছে।


ফ্যাক্ট চেক:

বুম বাংলাদেশ- রিভার্স ইমেজ সার্চ করে এই ছবিটি ইন্টারনেটে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিভিন্ন সময়ে আপলোড হয়েছে বলে দেখতে পেয়েছে।

ফ্লিকার ডটকমে ছবিটি ১৯ অক্টোবর ২০১৩ সালে প্রথম আপলোড হয়েছে বলে পাওয়া গেছে।


সেখানে ছবির ফটোগ্রাফারের নাম দেয়া আছে, "Iononis Protonotarios"। তবে ফ্লিকার-এ উক্ত প্রোফাইলে ছবিটির সাথে যে বর্ণনা দেয়া আছে তার সাথে বাংলাদেশি ফেসবুক পেইজগুলোতে ছড়ানো ঘটনার বিবরণ মিলে না।

ফটোগ্রাফার ছবির সাথে তথ্য দিয়েছেন যে, "৫ দিন আগে ছবির ব্যক্তিটি আমার পিতার পাশের বেডে ছিলেন"।

এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যম 'দ্য কুইন্ট' ওই ফটোগ্রাফারের (Iononis Protonotarios) সাথে যোগাযোগ করেছে। দ্য কুইন্ট'কে তিনি বলেছেন, "This photo was taken on 19 October 2013 at the Cardiology Ward of Red Cross Hospital of Athens, Greece. My father was a patient there and he was sharing the room with this man on the photo. As I was sitting next to my father's bed I noticed this bird that was sitting atop of this man who was asleep. It was sitting there for quite a while so I took a picture."

অর্থাৎ, বাংলাদেশে ছড়ানো পোস্টে একজন নাসের্র ছবিটি তোলার যে তথ্য বলা হয়েছে তা ভুয়া। এবং সাথে যুক্ত করা গল্পটিও ভুয়া।

Updated On: 2020-10-14T14:49:54+05:30
Claim Review :   প্রতিদিন খাবার দেয়ায় কবুতর হাসপাতালে এসে রোগীকে দেখে যায়
Claimed By :  Website, Facebook Posts
Fact Check :  False
Show Full Article
Next Story