ছবিটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কাটার নয়

সামাজিক মাধ্যমে ২০১৩ সাল কিংবা তার চেয়ে পুরোনো একটি ছবিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কাটার ছবি বলে প্রচার করা হচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যমে একটি ভাইরাল ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কোনো এক জায়গায় গাছ কাটা হচ্ছে এবং পাশে মাটিতে কয়েকটি পাখি পড়ে আছে। বলা হচ্ছে, ছবিটি সাম্প্রতিক সময়ের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের। দেখুন এমন কিছু লিংক এখানে, এখানে এবং এখানে

গত ৭ মে 'Tusar Rehman' নামের ফেসবুক আইডি থেকে একটি ছবি পোস্ট করা হয় যার ক্যাপশনে দাবি করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটা কার্যক্রমের ছবি এটি। আরো দাবি করা হয়, এই গাছ কাটার ফলে এক জোড়া সারস পাখির বাসা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দুটি সারস-ছানা মারা গেছে। দেখুন পোস্টটির একটি স্ক্রিনশট--

পোস্টটির আর্কাইভ দেখুন এখানে

ফ্যাক্ট চেক:

বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে ছবির ক্যাপশনে করা দাবিটি বিভ্রান্তিকর।

রিভার্স ইমেজ সার্চিং টুল ব্যবহার করে দেখা গেছে, ছবিটি ২০১৩ সাল থেকে বিভিন্ন পোর্টাল ও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা হচ্ছে। সবচেয়ে পুরোনো ছবিটি পাওয়া গেছে ২০১৩ সালের জুলাই মাসে ভেনেগাল ডট ব্লগস্পট ডট কমে।

ছবিটি দেখুন এই লিংকে

২০১০ সালে মালায়লাম ভাষায় এই ছবিকে প্রচ্ছদ হিসেবে ব্যবহার করে একটি বই প্রকাশিত হয়। মাথরুভূমি বুকস থেকে প্রকাশিত বইটি লেখেছেন জি নির্মালা।

বইটির কেরালা বুক স্টোরের লিংক
এখানে

এছাড়া ছবিটি একাধিক ফেইসবুক পেইজেও পাওয়া গেছে। ২০১৪ সালের ১ অক্টোবরে একটি ফেইসবুক পেইজের করা পোস্টটি দেখুন-

"Our dreams have been doctored. We belong nowhere. We sail unanchored on troubled seas. We may never be allowed ashore....

Posted by Thrissur Prakruthi Samrakshana Samithi on Wednesday, 1 October 2014

এর বাইরে ছবিটি ২০১৯ সালে একটি বাংলা ব্লগেও পাওয়া গেছে। সোনেলা ব্লগ নামের সাইটটিতে ছবিটি পোস্ট করা হয়েছিল ২০১৯ সালে।

লিংক এখানে

ছবিটি ২০১৩ সাল থেকে বিভিন্ন ব্লগ কিংবা সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া গেলেও ছবিটির আসল ঘটনাস্থল কিংবা ফটোগ্রাফার সংক্রান্ত কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

অপরদিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বেশ কিছু স্থাপনা তৈরির অংশ হিসেবে গাছ কাটা চলছে চলতি মাস থেকে। দেখুন এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন-

প্রতিবেদনটি পড়ুন এখানে

অর্থাৎ পুরোনো একটি ছবিকে সাম্প্রতিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কাটার ঘটনার ছবি বলে প্রচার করা বিভ্রান্তিকর।

Show Full Article
Next Story
Our website is made possible by displaying online advertisements to our visitors.
Please consider supporting us by disabling your ad blocker. Please reload after ad blocker is disabled.