ভিত্তিহীন ক্যাপশনে ২০২০ সালের ছবি ভাইরাল

বুম বাংলাদেশ দেখেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জমি সংক্রান্ত সংঘর্ষে আহতদের ছবিকে ভিত্তিহীন ক্যাপশনে নতুন করে প্রচার করা হচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ছবি দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পক্ষে বিপক্ষে তর্কে জড়িয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৫ জন আহত। দেখুন এমন তিনটি পোস্টের লিংক এখানে, এখানে এবং এখানে

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি 'Razon Jr' নামের ফেসবুক পেজ থেকে একটি ছবি পোস্ট করা হয়। যার ক্যাপশন ছিল, ''ব্রাহ্মনবাড়িয়ায় চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পক্ষে বিপক্ষে তর্কে জড়িয়ে দুই যুদ্ধ বিশেষজ্ঞ দলের মারামারিতে ৫ জন আহত'"। অর্থাৎ দাবি করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ নিয়ে বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একাধিক লোক আহত হয়েছে। পোস্টের সাথে যুক্ত ছবিটিতে একাধিক ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় একটি বেঞ্চে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে। দেখুন পোস্টটির স্ক্রিনশট--


ফ্যাক্ট চেক:

বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আহত ব্যক্তিদের এই ছবিটি ভিন্ন ঘটনার পুরোনো ছবি। এছাড়া ছবির ক্যাপশনটিও ভিত্তিহীন। গুগল রিভার্স ইমেজ সার্চিং করে আসল ছবিটি বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যমে পাওয়া গেছে। ২০২০ সালের ২৬ এপ্রিল একুশে টিভি অনলাইনে 'ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফের দু'পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০' শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়েছিল। খবরটির সাথে সাম্প্রতিক ভাইরাল হওয়া ছবিটি খুঁজে পাওয়া গেছে। দেখুন--


খবরটিতে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ২৬ এপ্রিল আশুরাইল গ্রামের বাসিন্দা ধলাই মিয়া তার বাড়িতে সীমানা প্রাচীর দিতে চাইলে প্রতিবেশী ধন মিয়া তাতে বাধা দেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশি অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় আধা ঘণ্টা চলা ওই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন।

অর্থাৎ ২০২০ সালের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুরোনো একটি ঘটনার ছবিকে নতুন শিরোনাম দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৩ মার্চ ছবিটির ক্যাপশনে উল্লেখিত দাবিটিকে 'অসত্য' চিহ্নিত করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত করেছে নিউজ বাংলা ২৪ ডটকম। দেখুন--


সেখানে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা মোহাম্মদ শাহিনের বরাতে বলা হয়, ইউক্রেন-রাশিয়া নিয়ে বিতর্কের জেরে সংঘর্ষে আহত হওয়ার খবরটি গুজব। পড়ুন এখানে

অর্থাৎ ২০২০ সালের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জমি সংক্রান্ত সংঘর্ষে আহত হওয়ার পুরোনো ছবিকে ভিত্তিহীন ক্যাপশনে নতুন করে প্রচার করা হচ্ছে, যা বিভ্রান্তিকর।

Show Full Article
Next Story
Our website is made possible by displaying online advertisements to our visitors.
Please consider supporting us by disabling your ad blocker. Please reload after ad blocker is disabled.