স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুইজারল্যান্ডে না গিয়ে দেশে ফেরার খবরটি পুরোনো

বুম বাংলাদেশ দেখেছে, গত বছরের ২৮ নভেম্বর অমিক্রন সংক্রান্ত জরুরি বৈঠকে উপস্থিত হতে দেশে ফিরে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের একাধিক পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, সম্প্রতি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভিসা বাতিল হয়েছে। দেখুন এমন দুটি পোস্ট এখানে এবং এখানে

গত ৪ জানুয়ারি 'BNP Media Forum Central BD' নামের পেজ থেকে একটি খবরের স্ক্রিনশটসহ একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে দৈনিক মানবজমিনের একটি প্রতিবেদনের আংশিক স্ক্রিনশটে লেখা আছে, যে কারণে সুইজারল্যান্ড না গিয়ে দুবাই থেকে দেশে ফিরলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পোস্টটির ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সুইজারল্যান্ডের ভিসা বাতিল! এয়ারপোর্ট থেকে ফিরিয়ে দিয়েছে দুবাই ইমিগ্রেশন পুলিশ। #ছোট_হয়ে_আসছে_পৃথিবী। মানবজমিনের সেই প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট ছাড়া সেই দাবির পক্ষে কোনো উৎসের উল্লেখ সেখানে পাওয়া যায়নি। মূলত গত ১০ ডিসেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক র‍্যাব এবং তার ছয় কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর থেকে একাধিক ক্ষমতাসীন ব্যক্তির ব্যাপারে এই ধরণের সুত্রহীন তথ্য সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে।

দেখুন সেই পোস্টটি–


ফ্যাক্ট চেক:

বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, খবরটি পুরোনো এবং বিভ্রান্তিকর। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সুইজারল্যান্ড সফর বাতিল হওয়ার খবরটি গত নভেম্বর মাসের। ফেসবুকে প্রচারিত স্ক্রিনশটটির আসল খবরটি খুঁজে পেয়েছে বুম বাংলাদেশ, যেটি মানবজমিনের অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে গত ২৮ নভেম্বর। 'যে কারণে সুইজারল্যান্ড না গিয়ে দুবাই থেকে দেশে ফিরলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী' শিরোনামের সেই খবরটির পূর্ণাঙ্গ স্ক্রিনশট দেখুন--


খবরটিতে বলা হয়, সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। কিন্তু করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট অমিক্রনের বিষয়ে জাতীয় পরামর্শক কমিটির সঙ্গে বৈঠক করতে দুবাই থেকে দেশে ফিরে এসেছেন তিনি।

একই খবর প্রকাশিত হয়েছে বাংলা ট্রিবিউন পত্রিকার অনলাইন ভার্সনেও। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাইদুল ইসলামের বরাতে বলা হয়, দুবাই থেকে আরেকটি ফ্লাইটে রাত ১১টায় দেশে ফেরেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। দেখুন--


প্রতিবেদনটি পড়ুন এখানে

এছাড়া একই দিনে অর্থাৎ ২৮ নভেম্বর এই খবরটি প্রকাশিত হয়েছে যুগান্তর এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার অনলাইন ভার্সনেও। এসব প্রতিবেদনের কোথাও ভিসা বাতিল হবার কোনো তথ্যের উল্লেখ ছিল না।

অর্থাৎ গত ২৮ নভেম্বরের পুরোনো খবরের স্ক্রিনশট দিয়ে তথ্যসুত্রহীনভাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভিসা বাতিলের খবর প্রচার করা হচ্ছে; যা বিভ্রান্তিকর।

Claim :   স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সুইজারল্যান্ডের ভিসা বাতিল
Claimed By :  Facebook Posts
Fact Check :  Misleading
Show Full Article
Next Story
Our website is made possible by displaying online advertisements to our visitors.
Please consider supporting us by disabling your ad blocker. Please reload after ad blocker is disabled.