ভূমিকম্পে গাজীপুরে ভবন ধসে পড়ার দাবিতে মিয়ানমারের ছবি প্রচার
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, ভাইরাল ছবিটি ভূমিকম্পে গাজীপুরে ভবন ধসের নয় বরং এটি গত মার্চে মিয়ানমারে ভূমিকম্পে ভবন ধসের ছবি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে ভবন ধসে পড়ার ছবি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, সম্প্রতি ভূমিকম্পে গাজীপুরে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির ভবন ধসে পড়ে কয়েকজন মারা গেছেন। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
গত ২১ নভেম্বর ‘Trisna Aktar’ নামক একটি আইডি থেকে ছবিটি পোস্ট করে উল্লেখ করা হয়, “ইন্না লিল্লাহ। আজকের ভূমিকম্পে গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির ভবন ধ্বসে পড়েছে। এতে কয়কেজন মৃ*ত্যু*বরণ করেছেন এবং অনেক শ্রমিক গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।” নিচে পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে আলোচ্য কোলাজ ছবি সম্প্রতি ভূমিকম্পে বাংলাদেশের কোনো ভবন ধসে পড়ার নয়। বরং এটি গত মার্চে মিয়ানমারে ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পে ভবন ধসের।
ভাইরাল ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করে “Quake death toll rises to 23 in Myanmar, Thailand” শিরোনামে ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ এর ওয়েবসাইটে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। চলতি বছরের ২৮ মার্চ প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবির সঙ্গে ফেসবুকে প্রচারিত ছবির মিল পাওয়া যায়। স্ক্রিনশট দেখুন--
যেখানে বলা হয়, একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ২৮ মার্চ মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে অন্তত জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, ধসে পড়েছে বেশ কিছু ভবন ও সেতু। মধ্য মিয়ানমারের সাগাইং শহরের উত্তর-পশ্চিমে ৭.৭ মাত্রার অগভীর এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে এবং কয়েক মিনিট পরই ৬.৪ মাত্রার একটি আফটারশক অনুভূত হয়।
রিভার্স ইমেজ সার্চ করে “Myanmar earthquake: 39 dead, several injured, emergency declared” শিরোনামে ‘আসাম ট্রিবিউন’ এর অনলাইনে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ২৮ মার্চ ২০২৫ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবির সঙ্গে ফেসবুকে প্রচারিত ছবির মিল পাওয়া যায়। যেখানে বলা হয়, মিয়ানমারে পরপর দুটি ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে যথাক্রমে রিখটার স্কেলে যা ৭.৭ এবং ৬.৪ মাত্রার। যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং থাইল্যান্ড, ভারত, চীন ও বাংলাদেশসহ একাধিক দেশে ভূকম্পন অনুভূত হয়। মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের বাইরে চীনের ইউনান প্রদেশ, ভারতের কলকাতা, মণিপুরের ইম্ফল, মেঘালয়ের ইস্ট গারো পাহাড়, এবং বাংলাদেশে ঢাকা ও চট্টগ্রামেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। মিয়ানমারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে এবং ৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। স্ক্রিনশট দেখুন--
অর্থাৎ আলোচ্য দাবিটি সম্প্রতি ভূমিকম্পে গাজীপুরে ভবন ধসের কোনো ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বরং এটি গত মার্চে মিয়ানমার-থাইল্যান্ডে ভূমিকম্পে বিভিন্ন ভবন ধসের।
সুতরাং মিয়ানমার-থাইল্যান্ডে ভূমিকম্পে ভবন ধসের ছবি দিয়ে বাংলাদেশের গাজীপুরের দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




