অক্সফোর্ড ইউনিয়নের আমন্ত্রণেই প্যানেল ডিসকাশনে অংশ নেন হাসনাত-সাদিক
১৪ জুন ‘অক্সফোর্ড ইউনিয়ন’ ও ‘অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি’র যৌথ উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আলোচনা সভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ, সাদিক কায়েমসহ চারজনকে আমন্ত্রণ করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে একটি ফটোকার্ড পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, অক্সফোর্ড ইউনিয়নের আমন্ত্রণে নয়; এনসিপি ও জামায়াত-শিবিরের লোক দিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করে ডিবেটিং চেম্বার ভাড়া নিয়ে প্রোগ্রাম করে হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি ও ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
গত ১৫ জুন ‘মহিউদ্দিন মোহাম্মদ’ নামক একটি আইডি থেকে ফটোকার্ডটি পোস্ট করে উল্লেখ করা হয়, “অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে শিবিরের সাদিক কায়েম অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটির ঐতিহাসিক ডিবেটিং চেম্বারে বক্তৃতা দিয়েছেন, এমন প্রচারণা ফেসবুকে নজরে আসার পর লেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদের বড় ধরণের খটকা.... ছাত্ররাও আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ও অক্সফোর্ড ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ইমেইলে আমন্ত্রণ পায়। কিন্তু উল্লিখিত অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ ধরণের কিছু আমার নজরে পড়েনি।” // জনস্বার্থে এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছেন: এডমিন প্যানেল, মহিউদ্দিন মোহাম্মদ পাঠক পরিবার। তথ্য ও দিকনির্দেশনা: মহিউদ্দিন মোহাম্মদ।” নিচে পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে অক্সফোর্ড ইউনিয়নে এনসিপি ও জামায়াত-শিবিরের আয়োজন ও নিজেদের টাকায় হলরুম ভাড়া নিয়ে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমসহ চার জনে প্রোগ্রাম করেননি; বরং ‘দ্যা অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটি’র এবং ‘অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি’র যৌথ উদ্যোগে গত ১৪ জুন “দ্য স্টুডেন্ট-লেড আপরাইজিং অ্যান্ড দ্য ফিউচার অফ পোস্ট-রেভোলিউশনারি বাংলাদেশ” শীর্ষক একটি আলোচনা সভায় প্যানেল ডিসকাশনে অংশ নেন তারা।
কি ওয়ার্ড সার্চ করে ‘Shafquat Rabbee Anik’ নামের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে ১৫ জুন একটি পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়। যেই পোস্টে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষরিত মো. আব্দুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ) কে আমন্ত্রণের একটি চিঠি খুঁজে পাওয়া যায়। যেখানে উল্লেখ্য করা হয়, জনাব মো. আব্দুল হাসনাতকে যুক্তরাজ্যে "দ্য জুলাই রেভোলিউশন অ্যান্ড দ্য রিটার্ন অফ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ" শীর্ষক ইভেন্টে সম্মানিত বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পোস্টটি দেখুন--
পাশাপাশি, কি ওয়ার্ড সার্চ করে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল ‘theoxfordunion’ এ একটি পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়। যেখানে ১৪ জুন সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে “ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থান এবং বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ” শীর্ষক একটি আয়োজনে অংশ নেয়ার জন্য একটি অনলাইন আমন্ত্রণের আহবান জানানো হয়।সেখানে বক্তা হিসেবে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম, অন্তর্বর্তী সরকারের গুম অনুসন্ধান কমিশনের সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস এবং প্রফেসর ড. আলিয়ার হোসেন এর নাম উল্লেখ্য করা হয়। পোস্টটি দেখুন--
পাশাপাশি, কি ওয়ার্ড সার্চ করে “Why the Oxford Union’s Bangladesh ‘debate’ sparked controversy” শিরোনামে ‘দ্য ডেইলি স্টারে’র অনলাইনে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। যেখানে বলা হয়, আলোচনাটি হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা নিজেই এক বিতর্কের বিষয়ে পরিণত হয়। গত ১৪ জুন, অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি এবং অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে “দ্য স্টুডেন্ট-লেড আপরাইজিং অ্যান্ড দ্য ফিউচার অফ পোস্ট-রেভোলিউশনারি বাংলাদেশ” শীর্ষক একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এই প্যানেলে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজন বক্তা, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ এবং রাজনৈতিক রূপান্তরের সাথে জড়িতরা অংশ নেন।
বক্তাদের মধ্যে ছিলেন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) নেতা ও ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর অন্যতম প্রধান সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ও জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক সাদিক কায়েম; শিক্ষাবিদ ও গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সাবেক সদস্য ড. নাবিল ইদরীস এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষাবিদ ড. আলিয়ার হোসেন। স্ক্রিনশট দেখুন--
এছাড়া, কি ওয়ার্ড সার্চ করে ডিজিটাল অনুসন্ধানমূলক সংবাদমাধ্যম ‘দ্যা ডিসেন্ট’ এর অনলাইনে “অক্সফোর্ডের সেই অনুষ্ঠানের আয়োজক কে? ছড়ানো হচ্ছে একাধিক অসত্য দাবি” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। যেখানে অক্সফোর্ড ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট আরওয়া হানি এলরায়েস স্বাক্ষরিত হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সাদিক কায়েমকে পাঠানো দুইটি আমন্ত্রণপত্র যুক্ত করা হয়। স্ক্রিনশট দেখুন--
অর্থাৎ, অক্সফোর্ড ইউনিয়নে এনসিপি ও জামায়াত-শিবিরের আয়োজন ও নিজেদের টাকায় নয়; বরং ‘দ্যা অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটি’র এবং ‘অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি’র আমন্ত্রণে হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সাদিক কায়েম গত ১৪ জুন “দ্য স্টুডেন্ট-লেড আপরাইজিং অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব পোস্ট-রেভোলিউশনারি বাংলাদেশ” শীর্ষক একটি আলোচনা সভায় প্যানেল ডিসকাশনে অংশ নেন।
সুতরাং, ‘অক্সফোর্ড ইউনিয়ন’ এবং ‘অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি’র আমন্ত্রণকে এনসিপি ও জামায়াত-শিবিরের আয়োজন দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




