মসজিদ, মন্দির নিয়ে বিএনপি নেতার বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, মসজিদ, মন্দির নিয়ে জামায়াত ইসলামীর বরাতে দেওয়া বিএনপি নেতার বক্তব্য আংশিকভাবে প্রচার করা হচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে বলা হচ্ছে, বিএনপি নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হলে মুসল্লিরা ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে নামাজ পড়তে পারবে এবং ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিতরা প্রয়োজনমত এসে বায়তুল মোকাররমে পুজা দিতে পারবে। এরকম কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ১৭ জানুয়ারি 'রাজনীতি ৩৬০' নামে একটি ফেসবুক একাউন্ট থেকে আলোচ্য ভিডিওটি শেয়ার করে বলা হয়, "বায়তুল মোকাররম মসজিদে মন্ডপ বানাতে চাইলে বিএনপিতে ভোট দিন"। ভিডিওটিতে বিএনপি নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেলকে বলতে দেখা যায়, "ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে নামাজ পড়তে পারবে এবং ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিতরা প্রয়োজনমত এসে বায়তুল মোকাররমে পুজা দিতে পারবে।" ফেসবুক পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। মূলত, বিএনপি নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেলের বায়তুল মোকাররম মসজিদ এবং ঢাকেশ্বরী মন্দিরের উল্লেখ করে এগুলোর ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থানের ব্যাপারে কথা বলার একটি ভিডিওকে কেটে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হচ্ছে।
ভাইরাল ভিডিওটির কি ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে গত ১৬ জানুয়ারি বেসরকারি সম্প্রচার মাধ্যম বায়ান্নো টিভির ফেসবুক পেজে আলোচ্য ভিডিওটির মত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। "আমাদের কানে ষ-ড়যন্ত্রের কথা আসছে : হাবিব উন নবী খান সোহেল #BNPNews #Politics" ক্যাপশনে প্রচারিত ওই ভিডিওটির ৫ মিনিট ৫ সেকেন্ডে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেলকে বলতে শোনা যায়, "এরা সুযোগ পেলে এমনও কথা বলবে, এমনও ফতোয়া দেবে যে, "মুসল্লীরা প্রয়োজনে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে নামাজ পড়তে পারবে এবং ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিতরা প্রয়োজনমত এসে বায়তুল মোকাররমে পুজা দিতে পারবে"। ফেসবুক ভিডিওটি দেখুন--
আরো সার্চ করে অনলাইন পোর্টাল বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ইউটিউব চ্যানেলেও গত ১৬ জানুয়ারি "ক্ষমতায় যেতে তারা ঢাকেশ্বরী মন্দিরে নামাজের ফতোয়াও দিতে পারে : সোহেল | Habib-un-Nabi Sohel" শিরোনামে একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ওই ভিডিওটিতেও বিএনপি নেতা হাবিবকে তার বক্তব্যে একই কথা বলতে শোনা যায়। ইউটিউব ভিডিওটি দেখুন--
অর্থাৎ, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। আলোচ্য ভিডিওর ব্যক্তি বিএনপির ব্যাপারে নয় বরং নির্বাচনে জয়ী হলে মসজিদ, মন্দিরের ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য অবস্থানের ব্যাপারে বক্তব্য দিতে গিয়ে আলোচ্য বক্তব্য দেন।
সুতরাং বিএনপি নেতার মসজিদ, মন্দির নিয়ে জামায়াতের অবস্থানের ব্যাপারে নিয়ে দেওয়া বক্তব্যকে বিকৃতভাবে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




