সেনা সদস্যদের ভিডিওতে ভিন্ন অডিও যুক্ত করে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, সেনা সদস্যদের গত ফেব্রুয়ারির পুরোনো একটি ভিডিওতে আলোচ্য অডিওটি সম্পাদনা করে প্রচার করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, হেলমেট ও ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় কয়েকজন সেনা সদস্য দাঁড়িয়ে আছেন। একজন হ্যান্ডমাইকে বলছেন 'জয় বাংলাকে যারা অস্বীকার করে তারাতো বাঙ্গালি-ই না। তুমি আগে জয় বাংলাকে স্বীকার করো, জয় বাংলাকে তুমি ধারণ করো তারপর নির্বাচনের স্বপ্ন দেইখো মনা'। এরকম পোস্ট দেখুন এখানে।
গত ১২ই নভেম্বর ‘Kakoli Rani’ নামক পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, “সেনা সদস্য জয় বাংলা শ্লোগানের মুখরিত”। পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, ভিডিওটি সম্পাদিত। সেনা সদস্যদের একটি ভিডিও ক্লিপ সম্পাদনা করে মূল অডিওটি বদলে আলোচ্য অডিওটি যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে ভিডিওর কোণে দৈনিক ইত্তেফাকের লোগো দেখা যায়। ভিডিও থেকে কি-ফ্রেম (স্থিরচিত্র) নিয়ে ছবি রিভার্স ইমেজ সার্চ সহ আনুসাঙ্গিক বিষয়ে সার্চ করে ইত্তেফাকের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে গত ১৪ই মার্চ “গাজীপুরে সড়ক অবরোধকারীদের ৭ মিনিটের আল্টিমেটাম সেনাবাহিনীর” শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। প্রাপ্ত ভিডিওটি ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওর সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।
ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, সেনা সদস্য আন্দোলনকারীদেরকে রাস্তা থেকে সরে যাওয়ার জন্য বলা হয়। তবে জয় বাংলা বা এ-সংক্রান্ত কিছু বলতে শোনা যায়নি। ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওটির স্থিরচিত্রের (বামে) সাথে প্রতিবেদনের ভিডিওটির স্থিরচিত্রের (ডানে) পাশাপাশি মিল দেখুন--
পাশাপাশি, দৈনিক ইত্তেফাকের এই ঘটনার অনলাইন প্রতিবেদনেও একই বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১৪ই মার্চে "সেনাবাহিনীর ৭ মিনিটের আল্টিমেটাম, অবরোধ প্রত্যাহার ১ মিনিটেই" শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়- 'ঈদ বোনাস, ২৫ ভাগ উৎপাদন বোনাস, নাইট বিল, টিফিন বিলসহ বিভিন্ন দাবিতে গাজীপুরের তেলিপাড়া এলাকায় ইস্মোগ সোয়েটার নামে একটি কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এর জেরে শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন শ্রমিকরা। দীর্ঘ ভোগান্তির পর সড়ক ছাড়তে পোশাক শ্রমিকদের ৭ মিনিটের আল্টিমেটাম দেয় সেনাবাহিনী। পরে ১ মিনিটের মধ্যেই অবরোধ প্রত্যাহার করেন পোশাক শ্রমিকরা।'
অর্থাৎ ভিডিওটিতে ভিন্ন অডিও যুক্ত করা হয়েছে।
সুতরাং সামাজিক মাধ্যমে সেনা সদস্যদের পুরোনো একটি ভিডিওর অডিও পরিবর্তন করে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।




