রোজায় করোনা সংক্রমণ কমে যাওয়া বিষয়ক বিভ্রান্তিকর খবর

'রোজায় করোনা সংক্রমণ বাড়ার কোন প্রমাণ নেই' একটি জার্নালের এমন তথ্যকে 'রোজায় করোনা সংক্রমণ কমে' বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি মূলধারার সংবাদমাধ্যম সময়টিভি অনলাইনে 'রোজাদাররা করোনায় সংক্রমিত হন কম: গবেষণা' এই শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে যা তাদের ফেসবুক পেজেও পোস্ট করা হয়েছে। দেখুন এখানেএখানে

সময় টিভির প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে-
''রোজাদারদের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ একেবারেই কম। এমন তথ্য দিয়েছে ইউরোপের গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমসিবি। আর এ তথ্যের উপর বিশেষ বুলেটিন প্রকাশ করেছে আলজাজিরা ও বিবিসি।
এমন তথ্য যখন প্রকাশ পায় তখন সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে পবিত্র সিয়াম পালনের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায় শতভাগ। যেমনটা ঘটেছে ইতালিসহ সমগ্র ইউরোপে।''

সময়টিভি অনলাইনের এই প্রতিবেদনটি পরবর্তীতে বিভিন্ন নাম সর্বস্ব অনলাইন পোর্টালে হুবহু কপি করে প্রকাশ করা হয়। দেখুন এখানে, এখানেএখানে
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ রোজাদাররা করোনায় কম সংক্রমিত হওয়ার খবর ও এ সংক্রান্ত গবেষণার সত্যাসত্য যাচাই করে দেখার চেষ্টা করেছে।
প্রথমত দেখা যায়, রোজাদারদের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ একেবারেই কম এই তথ্যের সূত্র হিসেবে যে ইউরোপের গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমসিবি এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেটি কোন গবেষণা প্রতিষ্ঠানই নয়। বরং এমসিবি বা মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন হলো যুক্তরাজ্যে বসবাসরত মুসলমানদের একটি সংগঠন।
দ্বিতীয়ত, মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের দেয়া কোন তথ্যের উপর আল জাজিরা ও বিবিসি কোন বুলেটিন প্রকাশ করেনি।
তবে আল জাজিরায় গত ১ এপ্রিল 'Ramadan fasting safe in COVID-19 pandemic: UK study' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে যেখানে জার্নাল অব গ্লোবাল হেলথ নামে একটি পিয়ার রিভিউড জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণার সূত্র উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, গত বছর ব্রিটেন রোজা রাখার কারণে যে মুসলমানরা করোনা সংক্রমিত হয়ে বেশী মারা গেছেন এরকম কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ রোজা রাখলে যে করোনা সংক্রমণ এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে এরকম কোন প্রমাণ নেই।
আল জাজিরার এই প্রতিবেদনটিতে প্রসঙ্গক্রমে এমসিবি বা মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের একটি বক্তব্য যুক্ত করা হয়েছে যেখানে সংগঠনটির মুখপাত্র জার্নাল অব গ্লোবাল হেলথে প্রকাশিত গবেষণার উপর ভিত্তি করে বলেছেন যে এই গবেষণা ব্রিটেনে মুসলমানদেরকে নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণার নিরসন করতে সাহায্য করবে।
অন্যদিকে বিবিসিতে মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের সূত্রে ২০২১ সালের কোন প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। তবে 'Ramadan: Fasting safely during coronavirus crisis' এই শিরোনামের ২০২০ সালের ২৪ এপ্রিলের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায় যেখানে করোনার সময় মুসলমানদের রোজা রাখা নিয়ে বিভিন্ন নির্দেশনার কথা বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সম্মুখসারির মুসলিম স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য এমসিবির পক্ষ থেকে একটি নির্দেশনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে বলা হয়েছে তারা জীবনের ঝুঁকি থাকলে রোজা রাখা থেকে বিরত থাকতে পারবেন।
জার্নাল অব গ্লোবাল হেলথে কী আছে?
বুম বাংলাদেশ 'Assessing the impact of Ramadan fasting on COVID-19 mortality in the UK' শিরোনামে প্রকাশিত জার্নাল অব গ্লোবাল হেলথের প্রকাশিত গবেষণাটি যাচাই করে দেখেছে যে সেখানে বলা হয়েছে, ''Our findings suggest that the practices associated with Ramadan did not have detrimental effects on COVID-19 deaths. There has been much commentary suggesting that the behaviours and cultural practices of minority communities explain their increased exposure to the pandemic.''
অর্থাৎ রোজা রাখা এবং রোজায় খাবার ও পানি কম গ্রহণ করাসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার কারণে করোনার মৃত্যুহার বাড়ার কোন সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সময় টিভিসহ আরও কয়েকটি অনলাইনে যেভাবে শিরোনাম করা হয়েছে তা বিভ্রান্তিকর।
Claim :   রোজাদাররা করোনায় সংক্রমিত হন কম: গবেষণা
Claimed By :  News Outlets
Fact Check :  Misleading
Show Full Article
Next Story
Our website is made possible by displaying online advertisements to our visitors.
Please consider supporting us by disabling your ad blocker. Please reload after ad blocker is disabled.